প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দিলে জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দিলে জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দিলে জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে

অনলাইন ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের নেতাদের স্থান দিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘যেসব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শুধু নিজেদের পছন্দমতো লোক রাখবেন, যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবেন তাঁদের কমিটি অনুমোদন করা হবে না। যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন, তাঁদেরও কমিটিতে মূল্যায়ন করতে হবে। যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দেবেন, দরকার হলে তাঁদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করে দেব।’ শেখ হাসিনা গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এমনটা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর উল্যাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও পদাধিকারবলে সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানান, সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন নিয়েও কথা হয়। সভায় শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে যে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছিল তাঁদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। সভায় আট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে একটি কেন্দ্রীয় দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নেতৃত্বে এসব দল গঠন করা হবে। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, আট বিভাগের প্রতিটিতে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করছেন। ফলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়, দলের সিনিয়র নেতাদের চেয়েও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা অনেক বেশি প্রাধান্য পান। এ জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়েই বিভাগগুলোতে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা উচিত।

সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদেরসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত দেন।

সূত্র মতে, সভায় একজন নেতা বলেন, বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটিগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। সেখানে যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলেন কিন্তু পদ পাননি, তাঁদের কমিটিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। অতীতে বিভিন্ন সময় যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতেন তাঁরা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতেন। এতে দল শক্তিশালী হতো। সবাইকে নিয়েই কমিটিগুলো পরিচালিত হতো। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন, তাঁরা তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোণঠাসা করতে কমিটি থেকে বাদ দিচ্ছেন কিংবা বড়জোর সদস্য পদে রাখছেন। জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের এমন সংবাদ শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান শেখ হাসিনা। তিনি কমিটিগুলোতে পদবঞ্চিতদের মূল্যায়ন করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

সভা শেষে গণভবনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের এবং দুঃসময়ে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। কমিটি করার সময় কোনোভাবেই স্বজনপ্রীতি দেখানো যাবে না।’ তিনি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকদের আগামী সপ্তাহের মধ্যে উপকমিটির তালিকা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে পরামর্শ করে সেটি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সম্মেলন সম্পন্ন হওয়া জেলাগুলোর মধ্যে যাঁরা এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা দেননি, তাঁদের আগামী সপ্তাহের মধ্যে তা জমা দিতে হবে।

আটটি বিভাগে সাংগঠনিক কমিটি গঠন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা এসব কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকবেন এবং বিভিন্ন বিভাগীয় কমিটিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও থাকবেন। তৃণমূল পর্যন্ত দলকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে যেসব জেলা ও মহানগর সম্মেলন হয়নি, তাদের কমিটি গঠন করতে হবে। তবে এর আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের কাজ শেষ করতে হবে। এর আগে যেসব উপজেলা, জেলা, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হয়েছে, তাদের সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে কমিটি গঠন করে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই জমা দেয়নি। যারা এখনো জমা দেয়নি, তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত কমিটি জমা দিতেই হবে। এ সময় তিনি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার কমিটি করে জেলা সম্মেলন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারেরও আহ্বান জানান।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সীমিত আকারে সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ জানান।