প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরীতে অনিয়ম; এ্যাকশনে চেয়ারম্যান শাহাজাহান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরীতে অনিয়ম; এ্যাকশনে চেয়ারম্যান শাহাজাহান

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরীতে অনিয়ম; এ্যাকশনে চেয়ারম্যান শাহাজাহান

নিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ’ কাজে ব্যাপক অনিয়মের সংবাদ দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোতে সংবাদ প্রচার হয়। সেই সংবাদ গুলো দেখে সরজমিন পরিদর্শনে যান রাজনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান খান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. শহীদ বক্স।

সরজমিন পরিদর্শন শেষে শাহজাহান খান জানান, আমি খুবই মর্মাহত। রাজনগরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে অনিয়ম সংবাদটি দেখে আমি ঘর প্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকটি বাড়ি গিয়ে দেখে এসেছি। সংবাদে যে ভাবে লেখা হয়েছে তার চেয়ে আরো অনেক বেশি অনিয়মের চিত্র আমার চোঁখে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যা যা প্রয়োজন আমি তা করবো। অনিয়মের সংবাদটি করার জন্য মৌলভীবাজার ও রাজনগরের সকল সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।আমি এই বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো। দ্রুত যাতে এর সমস্যা সমাধান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছালেক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ময়নুল ইসলাম খান, জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি কায়েস আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মু, সাংগঠনিক সম্পাদক তুলিপ খান, রাজনগর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ খান প্রমূখ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর প্রথম ধাপে রাজনগর উপজেলায় ৮৯টি ঘর বরাদ্দ আসে। দরিদ্র পরিবারের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য সরকার প্রতিটি ঘরের বিপরীতে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং নির্ধারিত একটি ডিজাইন দেয়। কিন্তু প্রকল্পের ঘর নির্মাণে ডিজাইন প্রাক্কলন মোতাবেক গুণগতমান বজায় রেখে কোনো কাজই করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্র্রকল্পের নির্ধারিত ডিজাইন পরিবর্তন করে নিজের মনগড়া ডিজাইনে কাজ করিয়েছেন ইউএনও ফেরদৌসী আক্তার। পিলার ও টিন দিয়ে ঘর নির্মাণের কথা থাকলে নির্মাণ করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের ৩ ইঞ্চি গাতুনি দিয়ে। টিন আটকের (পিলারে) খুঁটিতে কেমন করে ইটের দেয়াল ঠিকবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে সুবিধা ভোগীদের। এ ঘর গুলো নিয়ে উপকার ভোগীরা অনেকটা বেকায়দায়।

ঘর নির্মাণ কাজে সরকার নির্ধারিত পরিকল্পনার কিছুই মানাহয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে নির্দেশনা ছিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে তদারকি করে কাজ করাবেন। অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদেরকে (পিআইসি) এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ৩০ জুন ২০১৯ তারিখের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখালেও এখন পর্যন্ত অনেক ঘরের কাজ বাকী রয়েছে। কিন্তু ইউএনও কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকই টাকা উত্তোলন করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল