প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া বিএনপির টার্গেট রাজপথে শোডাউন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া বিএনপির টার্গেট রাজপথে শোডাউন

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৬

প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া বিএনপির টার্গেট রাজপথে শোডাউন

khaladea-1000-copy০২ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার: জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সমঝোতার পথে নেই। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর থেকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে রাজনীতিতে শুরু হওয়া অস্তিরতা দৃশ্যমান রয়েছে। যখন দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। টিক তখনেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তাদের ক্ষমতার স্বার্থে এখনো এ বিষয়ে একমত না হওয়ায় এক অনিশ্চিয়তার পথে চলছে দেশ।

এদিকে দাবি আদায়ে অতীতের ব্যর্থ তকমা থেকে বের হতে রাজপথ আন্দোলনের মহড়া হিসাবে আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সমাবেশ করার ব্যাপারে এখন পর্যান্ত কোনো অনুমতি পায়নি দলটি। তারপরও সমাবেশকে ঘিরে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। যা জনৈতিকমহলে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

কেউ বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না জেনেই আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ৭ নভেম্বর কোনো কর্মসূচি করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না জানার পরেও দল ও দেশের সর্বসাধারণের সমর্থন কুড়াতে যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে চলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর তাই ওই দিনের সমাবেশকে সর্বকালের স্মরণীয়সমাবেশে রুপান্তর করতে ইতিমধ্যে বিএনপি তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ও শরীকদলের মহাসচিব পর্যায়ে যৌথসভা সম্পূর্ণ করেছে। দল ও জোটের শীর্ষনেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক জনসমাগম ঘটানোর নির্দেশনাও রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশকয়েকটি জেলাও তাদের সকল ইউনিট পর্যায়ে সমাবেশকে কেন্দ্র করে লিফলেট বিতরণ, পোষ্টার লাগানো, কাউন্সিলিং শুরু করে দিয়েছে। তাছাড়া নব গঠিত ঢাকা জেলা বিএনপিও ৭ নভেম্বরের সমাবেশকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছি। সমাবেশ করতে পারবো কি না এখনো জানি না। তবে প্রত্যাশা করি সরকার গণতন্ত্রের নূন্যতম অধিকার বাস্তবায়নে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেবে।

তিনি বলেন, বিএনপি নাই, বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না। হতাশায় নিমজ্জিত বলে মুখে যাই বলা হউক না কেন? বিএনপিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। তাই আগামী ৭ নভেম্বর অন্তত ৩ ঘন্টা আগেও যদি বিএনপিকে সমাবেশ করার সুযোগ দেয়া হয়, সমাবেশের উপস্থিতিই দেখিয়ে দেবে, বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

এদিকে সিপাহী বিপ্লবের নামে ৭ নভেম্বর কোনো কর্মসূচি বের করা হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

হানিফ বলেন, সিপাহী বিপ্লবের নামে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ১২শ’সৈন্যকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো। বিপ্লব দিবসের নামে কোনো কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করলে কঠোর ভাবে তা প্রতিহত করা হবে।

৭ নভেম্বর বিএনপিকে কোনো ধরণের কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকল প্রকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে কোনো মূল্যে বিএনপি সমাবেশ করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করে তাই ৭ নভেম্বর জলপাইয়ের পাতা-ঢাল দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবে। দেখি কত গুলি আর অস্ত্র দিয়ে ক্ষমতাসীনরা বিএনপির সেই সমাবেশ প্রতিহত করে।

এদিকে, দলটির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যে কোন মূল্য সমাবেশ করবে বিএনপি, তুমি হানিফ পারলে ঠেকাও।

তবে বিএনপির আরেকটি জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প হিসাবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার বিষয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

সরকারের শেষ সময়ে ক্ষমতার পক্ষ রুপ বদলাতে থাকে, বিপক্ষ দল সুযোগ নিতে চায় ষোল আনা। কানাঘুষা চলছে রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি সংগঠন গুছিয়ে পুনরায় বড় ধরণের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির দাবি, রাজপথের আন্দোলনে এখন অব্দি মূল ফোর্স মাঠে নামায়নি। সাংগঠনিক কাজের মধ্যে দিয়ে চলছে কর্মীদের ওয়ার্মআপ কর্মসূচি। চেষ্টা থাকবে প্রতিটি ইস্যুতে বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকা। তাছাড়া সরকার যদি বিএনপির সাথে সমঝোতায় পৌছাতে না পারে এবং তাদের ছাড়াই নির্বাচনের পথে এগোতে চায় তাহলে দেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। স্বাভাবিকভাবেই এর দায় ভার ক্ষমতাসীনদের ওপরেই পড়বে। আর সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বিএনপি এবার ভিন্ন কৌশলে পা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।