“প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্যান্সার হয়েছে, ভালোই হয়েছে এইডস হয়নি”:-মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্যান্সার হয়েছে, ভালোই হয়েছে এইডস হয়নি”:-মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৭

“প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ক্যান্সার হয়েছে, ভালোই হয়েছে এইডস হয়নি”:-মো.নাঈমুল ইসলাম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি একটি লিখিত দলিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী সহ বাংলাদেশের সংবিধান সর্বমোট ১৬ বার সংশোধীত হয়েছে। এই সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। তবে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের আদেশে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যায় এরূপ কোনো সংশোধনী এতে আনা যাবে না; আনা হলে তা হবে এখতিয়ার বহির্ভূত। বাংলাদেশের সংবিধান কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনই নয়;- সংবিধানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে এতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বিধৃত আছে। দেশটি হবে প্রজাতান্ত্রিক, গণতন্ত্র হবে এদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি, জনগণ হবে সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলেও দেশ আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা -কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়:-“সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়েছিল, ‘বলতে দ্বিধা নেই, ষোড়শ সংশোধনী একটি কালারেবল লেজিসলেশন (কোন কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা যখন ছদ্ম আবরণে ভিন্ন প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে একটি আইন তৈরি করে), যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন। এটা সংবিধানের দুটি মূল কাঠামো ৯৪(৪)ও ১৪৭(২) অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন। একইসঙ্গে সংবিধানের ৭(বি) অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে।’ রায়ে আরও বলা হয়, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রুল যথাযথ (এ্যাবসলিউট) ঘোষণা করা হলো। ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ কালারেবল, এটি বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলো”। বিচার বিভাগ যার সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আইন সভার একটি অংশ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি’র হাতে বিচার বিভাগের সকল ক্ষমতা ন্যাস্ত। ২০১৪ সাল থেকে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকার পক্ষ এবং প্রধান বিচারপতির মধ্যে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়। এক কথায় সোড়শ সংশোধনী হলো বিচার বিভাগকে সংসদীয় কর্তৃক পরিচালনা করা হবে। যদি এটি সম্ভব হয় বিচারপতি এস কে সিনহা জানতেন বাংলাদেশে এখন যা দুর্নীতি হচ্ছে  তা বেড়ে  গিয়ে এক সময় বাংলাদেশ পৃথিবীর  দুর্নীতিতে শীর্ষ একটি দেশ হবে। তিনি জানেন এদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু অনেক আগেই হয়ে গেছে। তাই খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি নেই তার সুষ্ঠু কোনো বিচার। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি সেই ষোড়শ সংশোধনীকে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে যখন বর্তমান সরকার তাকে রাজি করাতে না পারলে বিভিন্নভাবে কলা-কৌশলে তার স্বাক্ষর নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদন করা হয়। তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয় অসুস্থ বলে এবং রোগটির নাম দেয়া হয় ক্যান্সার। পরবর্তিতে যাকে অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা তিনি সিনিয়র কিন্তু “তিনি সরকার পক্ষের মতামতের সাথে ছিলেন” এটাও অস্থায়ী বিচারপতি হওয়ার একটা প্লাস পয়েন্ট। রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদন মঞ্জুরের পাতায় বানান ভুল এবং সাথে এস কে সিনহার স্বাক্ষরেও কারচুপি। অর্থাৎ সরকারপক্ষ প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছে। কিন্তু তারা তাকে ক্যান্সার রোগ দিয়ে দিয়েছে। বিচারপতি সততা এবং ন্যায়পরায়নতার সহিত কাজ করে গেছেন তাই আজ তাকে এভাবে অপদস্ত হতে হলো। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এটি ছাড়া আর কি বা আশা করা যায়। এইডস একটি ছোঁয়াচে রোগ। যেটি খুব স্বাভাবিক ভাবেই এক ব্যাক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যায়। ঠিক একইভাবে সরকারপক্ষ প্রধান বিচারপতিকে ক্যান্সার রোগ দিয়েছে যদি এইডস দিতো তাহলে এস কে সিনহার গুণগুলো আব্দুল ওয়াহাব মিঞা’র মধ্যে ট্রান্সফার হয়ে যেতো এইডস এর মতো। তাদেরকে আবার বিচারপতি পরিবর্তনে বিভিন্ন অবৈধ পথ অবলম্বন করতে হতো। তাই ভালোই হয়েছে এইডস না দিয়ে ক্যান্সার দিয়েছে। ষোড়শ সংশোধনীর সংশোধন বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য সারাজীবন কলঙ্ক হয়ে থাকবে। আর তার মাধ্যমে বাংলাদেশে সত্য এবং ন্যায়ের মৃত্যুবরণ হবে।
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।