প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আগমনে, আশার আলো দেখছেন গোয়াইনঘাটের নিম্নআয়ের মানুষ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আগমনে, আশার আলো দেখছেন গোয়াইনঘাটের নিম্নআয়ের মানুষ

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আগমনে, আশার আলো দেখছেন গোয়াইনঘাটের নিম্নআয়ের মানুষ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট :

আতঙ্কে কর্মহীন মানুষের জীবন। বাড়ছে হতাশা। সারাদেশ মত ঝুঁকিতে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।বাইরে যাওয়ার পথ নেই। জীবিকা নেই। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই অবস্থায় কেমন আছে গোয়াইনঘাট উপজেলার শ্রমজীবী মানুষেরা?
খাদ্য সংকটে পড়েছে শতশত গ্রাম। দিন এনে দিন খাওয়া হাজার হাজার মানুষ খাদ্যের অভাবে দিশেহারা।
জীবিকার তাগিদে ঘর ছেড়ে পরবাসী হওয়া মানুষগুলো করোনাক্রান্তিতে বেকার হয়ে ফিরে আসছে দল বেঁধে। পরিবারের প্রয়োজনে এক সময়ের অভাবী এই জনপদ ছেড়ে কাজের আশায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাড়ি দিয়েছিল।

প্রাকৃতির সম্পদে ভরপুর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, জাফলং পিকনিক স্পট, পাথর কোয়ারি আর লীলাময় ভূ-প্রকৃতির। কিন্তু সম্ভাবনাময় এ এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন স্বাধীনতার পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা ভাগ্য বিড়ম্ভিত মানুষগুলো শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা মানুষ ।
সহজ-সরল, অভিযোগহীন মানুষগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দীর্ঘ কয়েকমাসের করোনা সংকট, পর পর ৬ বারের বন্যা, ফসলহীন জমি আর পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় চতুর্মুখী সংকটে নিম্ন মধ্যবিত্তের বুক জুড়ে চাপাকান্না।
কোভিড-১৯–এর কারণে মানুষের আয় কমে গেছে, বেড়েছে বেকারত্ব। যাদের আয় কম, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাঁদের আয়ের উৎস একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিজ শিল্প-কারখানা গার্মেন্টস প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমাতে ছাঁটাই করা হয়েছে লোক সংখ্যা, বন্ধ প্রাইভেট কোচিং সেন্টার, বেড়েছে শিক্ষিত বেকারের হার। বিধায় দরিদ্রতা হু হু করে বাড়ছে, বেকারত্ব বেড়ে চলেছে সীমাহীন, বৈষম্যের ব্যবধান আকাশছোঁয়া। গরিব মানুষের হাহাকার দেখার কেউ নেই। ডাক্তারেরা নিজেদের সেবায় ব্যস্ত, রোগীদের সেবায় নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে দিনের পর দিন। পরিবারের স্বপ্ন যে ছেলে বিসিএস ক্যাডার হবে সেই ছেলে এখন ইউটিউবে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ ফান ভিডিও করছে অবলীলায়। সম্ভাবনাময়ী ছেলের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন। ৬ বারের বন্যা যেন একেবারে নয় ধুকে ধুকে মারছে কৃষককে। সেপ্টেম্বর মাসের সর্বশেষ বন্যায় পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আগাম সবজি ফসলের, বোনা ও রোপায়িত আমনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে নিঃশেষ করে দিয়েছে সোনালী ফসল। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবাদ করা জমিতে যেখানে সোনালী ফসল হালকা বাতাসে দোল খাওয়ার কথা, সেখানে ফসলশুণ্য জমি পালন করছে পীনপতন নীরবতা। অভিমানে গোমরা মুখে আছে ক্ষেতের মাঠ। কোলের অবুঝ শিশুটির মতো ঠোঁট ভেংগে নীরবে-নিভৃতে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে কৃষকেরা, আনমনে বুলাচ্ছে মাথায় হাত। ক্ষুদ্র ঋণে জর্জরিত কৃষকেরা পথে বসেছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।আবার মরার উপর খরার ঘা গবাদি পশুর গো খাদ্য সংকট। প্রতি কেজি খড়ের মূল্য ২৫ টাকা, হাজার টাকা মন এ যেন গুপ্তধন।পাথর খেকোদের কবলে পড়ে বন্ধ পাথর কোয়ারী। সিলেটের প্রান্তিক জনপদ হিসেবে পরিচিত গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি জাফলং পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী লক্ষাদিক শ্রমিক ব্যবসায়ি রোজগার বঞ্চিত হয়ে পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অফুরন্ত পাথরের ভান্ডার থেকে পাথর আহরন করে নৌকা এবং ট্রলি দিয়ে তা পরিবহন করে যে মানুষগুলো যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, আজ তারা তীব্র খাদ্য সংকটে নিপতিত।
কাজ নেই, রোজগার নেই এ অবস্থায় বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত লক্ষাধীক মানুষের জীবন আজ চরম দুর্বিষহ। বিকল্প কোন রোজগার না থাকায় উপজেলায় শোনা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষের পদ ধ্বনি।উঠতি বয়সী বেকার কিশোরেরা জড়াচ্ছে চোরা কারবারে। সাথে রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহ কাঁচা বাজারের তরিতরকারির ঊর্ধ্বগতি বন্যার কবলে পড়ে গোয়েনঘট রধানগর, হাদারপার, সোনারহাট রাস্তা সহ গ্রামীণ রাস্তা গুলোর বেহাল দশা, রাস্তাঘাটের বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ক্ষয়ক্ষতি। ঠিক নাই দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষ সহ কৃষকের মতিগতি। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের স্টপিজগুলোতে যানবাহন আছে যাত্রী নাই। হাট-বাজারগুলোতে নাই মানুষের আনাগোনা। প্রতিটা পরিবারের ব্যয়ের খাতার হিসাব ঠিকই বাড়ছে বাড়ছে না আয়।
এতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলায় এখনই উদ্যোগের দাবি উপজেলাবাসীর সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্টদের।
কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে যত দ্রুত সরকারি কিংবা বেসরকারি সহযোগিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে তখনই কেবল গোয়াইনঘাট উপজেলার মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। করোনা থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেক মহাসঙ্কটে পড়ার আগেই আমাদের উচিত সবার ঐকান্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কর্মহীন দরিদ্র মানুষেরা খাদ্য না পেয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হলে এ উন্নয়ন বর্ষার বাদলে ডুবে যাবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের আগমনে উচ্চসিত গোয়াইনঘাট উপজেলা নিরীহ শ্রমজীবীর কর্মজীবী নিম্নমধ্যবিত্ত নিম্নআয়ের সাধারণমানুষ। গোয়াইনঘাট উপজেলায় উনার আগমনে আশার আলো দেখছেন তারা। গোয়াইনঘাট উপজেলার হাজার হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের চিন্তা করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তারা আশাবাদী। উপজেলার সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছেন উনার আগমনে সু খবরের সুনির্মল বাতাস বইবে।দিয়ে যাবেন উপজেলা বাসী মানিষের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা। আগামীকল্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও মতবিনিময় করবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল