প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামের ছেলে জুড়ীর শাহানের সাফল্যের কাহিনী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামের ছেলে জুড়ীর শাহানের সাফল্যের কাহিনী

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামের ছেলে জুড়ীর শাহানের সাফল্যের কাহিনী

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার
তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও বিজ্ঞান বিভাগের জটিল বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ব করে জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছে এক অদম্য শিক্ষার্থী। সে হচ্ছে মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সাগরনাল গ্রামের মেধাবী ছাত্র এহসানুল হক শাহান।

যে বয়সে অনেকে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বখাটে হয়ে যায়। তখন শাহান তার সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে।

জুড়ীর প্রত্যন্ত এলাকার একটি বিদ্যালয় থেকে এবছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহান। সে বলে, ‘একমাত্র তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করেই আমি পড়াশোনার অনেক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে আজকের স্বপ্নকে ছুঁয়েছি।’

শাহান বলে, ‘জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও জিপিএ-৫ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেই যে এসএসসিতে আমাকে অবশ্যই জিপিএ-৫ পেতে হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই পরিকল্পিতভাবে আমি পড়ালেখা করি।’

‘কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করে গ্রামে থাকার কারণে প্রাইভেট পড়ার জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক পাইনি। কারণ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, হাইয়ার ম্যাথ এবং ইংরেজির কিছু বিষয় ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে পাইনি। এক পর্যায়ে সিলেট শহরে কোচিং করার জন্য চলে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে ছেড়ে সেখানে একা থাকতে কষ্ট হয় তাই কয়েকদিনের মধ্যেই আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি।’

শাহান বলে, ‘এ সময় আমার ভাইয়া আমাকে একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করে দেন। যখন যেটা বুঝতামনা তখনই সেটা আমি ইন্টারনেট থেকে সার্চ করে জেনে নিতাম। ইন্টারনেট, গুগল এবং ইউটিউবকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। সেইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকারদেরকেও ধন্যবাদ।’

শাহান জুড়ী উপজেলার সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে,তার বাড়ি সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে। মা আয়েশা আক্তার একজন গৃহিনী এবং বাবা হোসাইন আহমদ আজাদ আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চার ভাইবোনের মধ্যে শাহান সবার ছোট।

এবিষয়ে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার বলেন, ‘ভালো ফলাফল অর্জন করতে ছাত্র, শিক্ষক এবং অভিভাবক সবার আন্তরিকতার সমন্বয় দরকার। তার সাথে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক সহায়তাই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে শাহানের।’

শাহান বলেন, ‘আল্লাহর রহমত, মা-বাবা, ভাইবোনের সহযোগিতা ও আমার বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদানের ফলে আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। ভবিষ্যতে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’