প্রশাসন জানেনা, চলছে স্টল বরাদ্দ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রশাসন জানেনা, চলছে স্টল বরাদ্দ

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৬

প্রশাসন জানেনা, চলছে স্টল বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারো সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্টল বরাদ্দ শুরু হলেও মেলা আয়োজনের খবর জানে না সিলেটের প্রশাসন। আয়োজকরা বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, চিঠি দিয়ে সিলেটের প্রশাসনকে অবগত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের ক্লিয়ারেন্স না নিয়ে এ ধরণের মেলার বৈধতা কতোটুকু ? মেলার আয়োজকরা বলেছেন, ১০ নভেম্বর থেকে মেলা উদ্বোধন করা হবে। মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঘোষনার খবরে যেনো বজ্রাঘাত পড়েছে অভিভাবকদের মাথায়। একদিকে জেএসসি পরীক্ষা চলছে, আবার পিএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে। মেলা আয়োজক মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের দাবী, পরীক্ষার সাথে মেলার আয়োজন সাংঘর্ষিক নয়।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলার মাঠে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। টানানো হয়েছে দোকান কোঠা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ব্যানার। প্রতিটি স্টল ৬৫ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন আয়োজকরা। মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ মেলার আশপাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, টিবি হাসপাতালসহ ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা চলছে। পিএসসি ও প্রাইমারী স্কুল এবং মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা কিছুদিন বাকী রয়েছে। এমন সময়ে মেলার আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী মেলা আয়োজনের সময় পরিবর্তন করে পরীক্ষার সময়কালে বন্ধ রাখার দাবী জানিয়েছেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার খেলার মাঠ নাম মাত্র হলেও মূলত এখানে সময়োপযোগী বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাঠের ব্যবহার ও মেলার আয়োজনই বেশী হয়ে থাকে। মেলা শেষ হলেও এই মাঠটি পরবর্তী সময়েও খেলা অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ইট, পাথর, স্টল তৈরীর অবশিষ্ট বর্জ যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। যা মাসের পর মাস চলে গেলেও পরিষ্কার করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়না। বতমানে বাংলাদেশ শিক্ষার ক্ষেত্রে গোটাবিশ্বে সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ হাসিল করতে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে পরীক্ষার সময় কোন মন মানসিকতায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে তার বুঝে উঠতে পারছেনা সচেতন মহল।
মেলার আয়োজক আলতাফুর রহমান আলতাফ জানান, ৯ নভেম্বর মেলা শুরু হবে এবং ১০ নভেম্বর এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলাটি মাসের অধিক সময়ও চলতে পারে বলে জানান তিনি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই মেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন নাই। প্রতিটি স্টল ৬৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, সদর উপজেলার শাহী ঈদগাহস্থ খেলার মাঠে মেলার আয়োজন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানায় নি।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শফিউল আলম জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কোন ক্ষতি হবে না। মেলার আয়োজনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। মেলা মূলত সন্ধ্যার পর শুরু হয়। মেলার সাথে পরীক্ষা সাংঘর্ষিক না।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান জানান, সিলেটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে বিষয়টি আমার জানা নেই। মেলা আয়োজন করতে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতির কপি আমাদের কাছে দিতে হয়। পরে আমরা তার সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনিক সহযোগীতা করে থাকি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন জানান, চলতি মাসে সিলেটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এ সম্পর্কিত কোন চিঠি আমার কাছে আসেনি। কে বা কারা মেলা করছে তা জানিনা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল