শীঘ্রই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলে চমক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

শীঘ্রই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলে চমক

প্রকাশিত: ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০১৭

শীঘ্রই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলে চমক

বিশেষ প্রতিবেদক: বিগত ১৭ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিয়ে চলছে সিলেট জেলা যুবদলের কার্যক্রম। নতুন করে কমিটি না আসায় তাদের কার্যক্রমে যেমন স্থবিরতা বিরাজ করছে, তেমনি সিলেটে অস্থিত্ব সংকটে রয়েছে বিএনপির এই অঙ্গসংসঠন। একই সাথে দীর্ঘদিন ধরে জেলা যুবদলের রাজনীতি করে পদ-পদবি না পাওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে হতাশা। জেলা যুবদলকে চাঙ্গা করতে অভিভাবক সংগঠন বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও নেই তেমন মাথাব্যথা। অনেকটাই লাগামছাড়া অবস্থায় এখন সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদল।
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেছেন- শীঘ্রই সিলেট সহ সারাদেশে সকল জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষনা করা হবে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা জেল-জুলুম, হামলা- মামলা শিকার হয়েছেন এসব ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বেই কমিটি হবে। যারা বিএনপিতে পদ পাবেন তাদেরকে যুবদলের কোন পদে রাখা হবে না। যারা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন তাদেরকে স্থানীয় কমিটিতে রাখা হবে না। এমনকি ছাত্রদলের পদবী প্রাপ্ত কোন নেতাকে যুবদলে পদ দেওয়া হবে না। যুবদল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘এক নেতার এক পদ’ এই বক্তব্য অনুসরণ করে দেশের সকল স্থানে যুবদলের কমিটি গঠন করবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি নেই। শহর কমিটি বিলুপ্ত। যুবদলের যুবকরা এখন মুরব্বী হওয়ার পথে। যুবদলের তৃণমূলে বিরাজ করছে চরম হতাশা আর বিভক্তি। নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন নতুন নেতৃত্বের। আন্দোলন’সহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে কর্মীরা বিভিন্ন গ্র“পে বিভক্ত হয়ে অংশ নিচ্ছেন। ফলে দলীয় কর্মকান্ডে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দের সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন কমিটির জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
জানা যায়, ২০০০ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও শহর যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। তবে নতুন কমিটি দায়িত্ব পায় ২০০১ সালের প্রথম দিকে। সম্মেলনে যুবদলের জেলা সভাপতি পদে নির্বাচিত হন সাবেক কাউন্সিলর কামাল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত তালাত আজিজ। শহর যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এমদাদ হোসেন টিপু , সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ মঈন উদ্দিন সুহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন মুসা। অজ্ঞাত কারনে সিলেট মহানগর যুবদলের কমিটি হয়নি কোন দিনই। যে কারণে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হচ্ছে না। আর মহানগর যুবদলের কমিটি না হওয়ায় শহর ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রামের পরিবেশ তৈরি হয়নি। দলের এমন অস্থির দশাতে সিলেটে যুবদলের অস্থিত্ব বিলীন হতে চলেছে।
এক পর্যায়ে জেলা যুবদলের সভাপতি সংগঠনকে সময় দিতে না পারায় এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি নেন। তখন সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত তালাত আজিজ যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় তার স্থলে প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদল তাদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিলে ভারপ্রাপ্ত শব্দটি দু’জনের নাম থেকেই উঠে যায়। বর্তমানে আব্দুল মান্নান জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি পদেও রয়েছেন। এছাড়াও ইতিপূর্বে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় যুবদলে পদ পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছেন। এমতাবস্থায় মামুনুর রশীদ মামুনের ভবিষ্যত বিএনপি ও কেন্দ্রের সাথে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় যুবদল নেতাদের নেতৃত্বেই আসছে সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি। সেটাই ইঙ্গিত করেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। তিনি স্পষ্ট বলেছেন- যারা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন কিংবা বিএনপির সম্পাদকীয় পদে স্থান পাবেন বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদার জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুসারে তারা যুবদলের গুরুত্বপুর্ণ পদে আসতে পারবেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহর যুবদলের সভাপতি এমদাদ হোসেন টিপু বর্তমানে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সুহেল মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে পেয়েছেন। শহরকে মহানগরে উত্তীর্ণ করার আশ্বাসে শহর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করে ছিল যুবদলের হাইকমান্ড। সিলেট বিভাগ ঘোষণা হয়েছে ১৯৯৪ইং , কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছর পরও মহানগর যুবদলের কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল ।
এমতাবস্থায় যুবদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্র“পে বিভক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। মহানগর যুবদলের নামে মাঝে মধ্যে পত্রিকায় একাধিক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তবে সেখানে যুবদল নেতা ছাড়া কারো কোন পদ-পদবী দেয়ার পরিচয় থাকেনা।
সিলেট যুবদলের এই করুণ অবস্থা ও নতুন কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব জানান, সিলেট বিভাগের সকল জেলা কমিটি সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলে এবার ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যারা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন তারাই মূল্যায়িত হবেন। রাজনীতিতে তারা যতই তরুন হোক না কেন। সিলেট যুবদলের তৃনমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দাবী, যুবদলের রাজনীতিকে ধরে রাখতে হলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। নইলে এ ভুলের মাসুল বেশ চড়া মূল্যে দিতে হবে।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যাদের নাম বারবার আলোচনায় আসছে, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বার বার কারা নির্যাতিত যুবদল নেতা ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বার বার কারা নির্যাতিত নেতা সাদিকুর রহমান সাদিক, নজিবুর রহমান নজিব, কামরুল হাসান শাহীন, সৈয়দ সাফেক মাহবুব, আব্দুল আহাদ খান জামাল, কুহিনুর আহমদ, সামছুল ইসলাম টিটু, আব্দুল মালেক, সোনাহর আলী সুহেল সহ নাম না জানা অনেকেই যুবদলের কমিটিতে আসতে লবিং শুরু করেছেন।
এদিকে যুবদল নেতাদের মধ্যে ১৭/১৮টি মামলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১০ বার কারা ভোগ করে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সদর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সামছুল ইসলাম টিটু। যুবদল নেতা কর্মীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ সরকারি পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন এই যুবদল নেতা। নির্যাতন নিপীড়নের কারনে জেলা যুবদল নেতা সামছুল ইসলাম টিটু কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবদলের সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল