প্রিজনভ্যানে হামলা পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, আটক ৬৯ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রিজনভ্যানে হামলা পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, আটক ৬৯

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

প্রিজনভ্যানে হামলা পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, আটক ৬৯

রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তোলা হয় প্রিজনভ্যানে। তখন সেখানে সহস্রাধিক বিএনপি নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা আটক দু’কর্মীকে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়। এর এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় এই ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আশরাফুল আজিমের হাতের আঙ্গুলে জখম হয়েছে। আরো কয়েক পুলিশসহ বিএনপির কয়েককর্মীও আহত হন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রমের পর পুলিশ বিএনপির ৬৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তাদেরকে রমনা ও শাহবাগ থানায় নেয়া হয়েছে। ঘটনার সময় ক্ষুব্ধ কর্মীরা এক পুলিশ সদস্যের বন্দুক কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। ভাঙচুর করে পুলিশের একটি  প্রিজনভ্যান। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর ওই এলাকা ত্যাগ করলে আট-দশ মিনিটের ব্যবধানে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের উপ- কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার মানবজমিনকে বলেন, বিএনপির ৬৯ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এ ঘটনায় উভয় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুরের পর হাইকোর্ট ও প্রেস ক্লাব এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ওই পথ দিয়ে আদালতে আসা-যাওয়া উপলক্ষে তাদের ওই জমায়েত বেশ কয়েকমাস ধরে চলে আসছিল। মামলার রায়ের দিন ঘনিয়ে আসায় কর্মী সমাগমও বাড়ছিল। গতকাল পুলিশ সেখান থেকে সোহাগ মজুমদার এবং ওবায়দুল হক মিলন নামে দুই কর্মীকে আটক করে গাড়িতে তোলে। তারা এক পর্যায়ে সেখানে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের ইশারা দিয়ে ডাকে। এরপর ওই ভ্যান ঘিরে ফেলে কর্মীরা। তাদেরকে বের করতে চেষ্টা করে। বাধা দিতে এগিয়ে যান এক পুলিশ সদস্য। তাকে ঘিরে ফেলে কর্মীরা। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান অপর এক পুলিশ সদস্য। তাকেও ঘিরে ফেলে তারা। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলে পড়ে। ক্ষুব্ধ কর্মীরা আছড়িয়ে ভেঙে ফেলে একটি বন্দুক। তখন উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রিজনভ্যানেও ভাঙচুর চালানো হয়। ভেঙে গেছে গাড়ির কয়েকটি কাঁচ। এক পর্যায়ে দলের কয়েক নেতা এসে তাদের নিবৃত্ত করেন। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করে। গাড়ির পেছন পেছন নেতাকর্মীরাও সামনের দিকে এগিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সে স্থান ত্যাগের পর পুলিশ আবার সেখান থেকে বিএনপির অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে আটক করে। তাদের কয়েকজনের নাম বাবু, জাভেদ ও হুমায়ুন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া কোর্ট থেকে ফেরার পথে আমরা যথেষ্ট ধৈর্যশীল ছিলাম। আমাদের একটি প্রিজনভ্যান ভাঙচুর হয়েছে। আটক থাকা দুইকর্মীকে তারা নিয়ে গেছে। তারা কোনো মামলার আসামি ছিল কিনা- তা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। আমাদের দুজন সদস্যও আহত হয়েছেন। শাহবাগ থানা পুলিশের এক সদস্য বলেন, অন্তত ২০ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের কার কী ভূমিকা ছিল তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এতে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরকে আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন খালেদা: রাষ্ট্রপক্ষ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক কার্যক্রমের সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। গতকাল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক  উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ট্রাস্টের অর্থ সংগ্রহ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি ট্রাস্টের সরষে পরিমাণ কাজও করেন নি। আদালতকে তিনি জানান, প্রসিকিউশন ৩২ জন সাক্ষীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা  অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে সাত বছরের সাজার আর্জি জানান তিনি। তার বক্তব্য শেষে এই মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তার আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। শুনানি শেষে বুধবার (আজ) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এর আগে গত ২৫শে জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন একই আদালতের বিচারক। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে আদালতে হাজির হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে বিকাল তিনটার কিছু পরে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে চলছে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু করেন মোশাররফ হোসেন কাজল। এ সময় তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার এজাহার, অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সঙ্গে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য পড়ে এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টকে ‘নামসর্বস্ব’ ট্রাস্ট উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে এই ট্রাস্ট গঠন করেন। যে উদ্দেশ্যে এই নামসর্বস্ব ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোনো কাজ করা হয়নি। ট্রাস্টের কল্যাণে সরষে পরিমাণ কাজও খালেদা জিয়া করেননি।
তিনি বলেন, আমরা কখনো বলিনি যে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে সরকারি টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছে। আমরা বলেছি, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অবস্থায় যে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, সেই প্রভাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এই ট্রাস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাস্টের নামে ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা যেটা সংগ্রহ করা হয়েছিল সেই টাকা খালেদা জিয়া নিজে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে  ট্রাস্টের নামে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে যে জমি কেনা হয় তাতে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বেশি দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাস্ট গঠনের সময় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ট্রাস্টের নথিপত্রের কোথাও তিনি এই পদ লেখেন নি। ২০০৪ সালের ২৬শে অক্টোবর গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নিবন্ধন করা হয়েছিল। সেখানেও খালেদা জিয়া তার প্রধানমন্ত্রীর পদ উল্লেখ করেননি। প্রধানমন্ত্রীর পদ তিনি গোপন করেছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামসর্বস্ব জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, চারবার তাকে (খালেদা জিয়া) এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমরা তাকে চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো বক্তব্য দেন নি। হয়তো তিনি বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি।
তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। আর এই ট্রাস্টে (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) তিনি নিজেই ট্রাস্টি হন এবং নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন, সোনালী ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ একটি প্রতিষ্ঠান। তার কাজ নির্ধারণ করা থাকে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তখন খালেদা জিয়া শপথ নিয়েছিলেন। শপথ চলার সময়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় বলে কিছু থাকে না। তখন তিনি দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। যে ট্রাস্ট তিনি গঠন করেছিলেন সেই ট্রাস্টে খালেদা জিয়া নিজের পদমর্যাদা উল্লেখ করেন নি, গোপন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যতদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ততদিন ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ হলো, এই ট্রাস্টের টাকা কেউ সাহায্য পেয়েছে বলে জানা যায়নি। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে যে ট্রাস্ট গঠন করা হলো সেটার কোনো কার্যক্রম নেই, ট্রাস্টের দলিলের কোনো বাস্তবতা নেই। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেছিলেন যে, এই ট্রাস্টের মধ্যে সরকারি কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছিল কিনা। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী বলেছে, এটি হয়নি। এই ট্রাস্টে বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে নাম লেখা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও এটি মেনে নিয়েছেন।
দুপুর দেড়টার দিকে মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে দুপুর ২টায় আবারো আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলতে চেয়েছেন যে, এখানে ট্রাস্ট আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারার যে অভিযোগ তা তারা মানতে চাচ্ছেন না। কিন্তু আমরা ৩২ জন সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, এই টাকার কোনো বৈধ উৎস নেই। অবৈধ উৎস থেকে এই টাকা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই টাকা সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছে এগুলো সঠিক। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে এবং ওই সময় পর্যন্ত টাকা এসেছে, যে সময় পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে কাজল বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হয়, তিনি (খালেদা জিয়া) সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমাদের সবাইকে আইনের মধ্যে থাকতে হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার দিকে তাকিয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমি জানি আমার সামনে কে বসে আছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমি কিছু বলছি না। শুনানিতে কাজল বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দুদক ও তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন। এমনও দেখেছি যারা মামলা পরিচালনা করছেন না তারাও ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা বলছেন। কিন্তু অপরাধী যেই হোক তাকে সাজা ভোগ করতে হয়। তিনি বলেন, দুদক যেটি মনে করে চার্জ দেয়া প্রয়োজন, সেটিতে চার্জ দেয়। যেটিতে  চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া দরকার, সেটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেখার সুযোগ নেই। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ঘৃণিত বলবো না, তবে, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে ক্ষমতার অপব্যহার করে এ ধরনের কার্যকলাপ না করতে পারে এ জন্য আসামিদের ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার আবেদন করছি।
মোশাররফ হোসেন কাজলের বক্তব্য শেষে এই মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। শুনানিতে তিনি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে যে সব অভিযোগ খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তাকে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বলেন, এই মামলায় একজন সাক্ষীও বলেনি যে, এই আসামিরা কারো কাছ থেকে অবৈধভাবে কোনো টাকা এনেছেন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলা দায়ের করে। খালেদা জিয়া ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার সাবেক  রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার একান্ত সহকারী সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত  পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।