প্রেমের বিয়ে তছনছ করে দিয়েছে শাহীনের জীবন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রেমের বিয়ে তছনছ করে দিয়েছে শাহীনের জীবন

প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৬

প্রেমের বিয়ে তছনছ করে দিয়েছে শাহীনের জীবন

Sylhet Sodor photoপ্রেমের বিয়ে তছনছ করে দিয়েছে শাহজাদ আহমদ শাহীনের জীবন। তিনি এখন স্ত্রীকে ফিরে পেতে ঘুরে বেরাচ্ছেন কন্যার আত্মীয় স্বজনের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু কন্যার আত্মীয় স্বজনরা সদয় না হয়ে নিষ্ঠুরতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। শাহজাদ আহমদকে দুনিয়া থেকে চিরতরে গায়েব করে দেওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিল কন্যার আত্মীয়স্বজন। ভাগ্য গুণে বেঁচে যান শাহীন।

শাহজাদ আহমদ শাহীন তার জীবনের ওই করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন।

Sylhet Sodor photo--01সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের কাজির গাঁও গ্রামের শাহীন জানান, তিনি ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী শিবের বাজার এলাকার পাগইল গ্রামের মনফর উরফে মনু মিয়ার কন্যা লুৎফা আক্তারকে। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর শাহীনের স্ত্রী লুৎফাকে নাইওর নেন তার পরিবারের লোকজন। নাইওর নেওয়ার পর স্বামী সংসারে ফিরিয়ে দিতে নানা টালবাহানা শুরু করে। সামাজিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শাহীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় লুৎফাকে। ২০১২ সাল পর্যন্ত তাদের সংসার ভালোই কেটে যায়।

শাহীন জানান, ২০১২ সালে তার স্ত্রীকে আবারও নাইওর নেওয়া হয়। নাইওর নেওয়ার পর শাহজাদ আহমদ শাহীনকে জানানো হয় লুৎফা লন্ডন যাবে একটি বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য। দুই মাসের মধ্যে সে ফিরে আসবে। এ জন্য অনুমোতি চাইলে সরল বিশ্বাসে শাহীন তার স্ত্রীকে লন্ডন যাওয়ার অনুমোতি দেয়।

শাহজাদ জানান, ২ মাসের মধ্যে লন্ডন থেকে ফিরে না আসায় তিনি খোঁজ নেন। এর পর থেকেই শাহীনরে উপর নেমে আসে অত্যাচার আর হয়রানীর নির্মমতা।

শাহীন জানান, এর পর থেকে সে নানা ধরনের মামলায় আসামি হতে থাকেন। হঠাৎ পুলিশ অভিযান চালায়। গ্রেফতার করে শাহীনকে। পাঠিয়ে দেয় কারাগারে। এভাবে তাকে তিনবার গ্রেফতার করা হয়। তিন বার গ্রেফতার হয়ে তাকে বন্দী জীবন কাটাতে হয়েছে প্রায় এক বছর। এর মধ্যে কয়েকবার তাকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আত্মীয় স্বজনের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

শাহীন জানান, বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলার আসামি হয়ে তাকে আজ সমাজে অপরাধী হিসেবে চলাফেরা করতে হয়। তারপরও তিনি একাধিকবার ছুটে গেছেন শ্বশুরালয়ে স্ত্রীর সন্ধানে। কিন্তু যখনই স্ত্রীর সন্ধানে শ্বশুরালয়ে যান তখনই তাকে নানা হুমকির মুখে পড়তে হয়। শাহজাদ তার স্ত্রীকে ফিরে পেতে এখন বিভিন্ন মহলের কাছে ঘুরে বেরাচ্ছেন।

শাহজাদ জানান, এই ঘটনার চক্রান্তকারী হিসেবে কাজ করছে লুৎফার মামা বিশ্বনাথের ইলামের গাঁও গ্রামের সোহেল ও শাহ সুমন। আপন ভাগ্নিকে নিয়ে তারা বিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল