ফেঞ্চুগঞ্জের কঠালপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ফেঞ্চুগঞ্জের কঠালপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

ফেঞ্চুগঞ্জের কঠালপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

ব্যবসায়ীর পুত্রকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অমল পালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে জয়গুরু ভান্ডার দোকান পুড়ে গেছে। এতে ১৫-২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ২০ জানুয়ারী রোববার রাত ১১.৪৫ এর দিকে।

জানা যায় অমল পালের পুত্র অপূর্ব পাল প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে দোকানের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। রোববার রাতে দূর্বৃত্তরা বাজারের প্রহরীকে আয়ত্ব করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসুটা নিয়ে অপূর্ব পালকে মারার পরিকল্পনা করে। ঐ রাতে ১১.৩০ টার দিকে বাজারের প্রহরী অপূর্ব পাল কে দোকানের বাহিরে আসতে বলে। অপূর্ব পাল দোকানের সাটার খোলে বাইরে আসলে ফজলু আহমদ এর নেতৃত্বে তার ছেলে ও আরো সন্ত্রাসী বাহিনী ও অপূর্ব পালের উপর হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা অপূর্ব পালকে দোকানের ভিতর রেখে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা দোকানের সাটারে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চতুর্দিকে আগুনের শিখা দেখে অপূর্ব পাল দোকানের পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়। সম্পূর্ন দোকান সন্ত্রাসীদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেলেও প্রাণে রক্ষা পান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামের অমল পালের পুত্র অপূর্ব পাল।

আগুনের সূত্রপাত ও ব্যবসায়ির উপর হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানা যায় কটালপুর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অমল পালের সাথে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলু আহমেদ এবং তার পরিবারের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরুধের সূত্র ধরেই অমল পালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জয়গুরু ভান্ডারে অগ্নিসংযোগ ও তার ছেলে অপূর্ব পাল কে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়।

জানা যায় অমল পালের সাথে ফজলু আহমদ ও তার ছেলেদের সঙ্গে মামলা এখনো চলে আসছে। অমল পাল জানান, মুক্তিযোদ্ধের সময় ও তার পরবর্তীতে তাদের বসতবাড়ি ও ক্ষেতের জমির একটি বিশাল অংশ জবরদখল করে ফজলু ও তার ছেলেরা ভোগ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকে তারা অমল পালের উপর বিরুদ্ধে লেগে আছে। অমল পালের পুত্র অপূর্ব পাল এসব মামলা চালিয়ে আসছেন। যার কারনে অপূর্ব পালকেই টার্গেট করে বিভিন্ন ভাবে তাকে হুমকি দিতে থাকে ফজলু ও তার ছেলেরা। ফজলু আহমদের বড় ছেলে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিলু আহমেদ, মেঝো ছেলে জুলহাস আহমদ সিলেট ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর পি.এস এবং ওনার বাকী ২ ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

ফজলু ও তার ছেলেরা রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে প্রভাবশালী থাকার কারনে ও বর্তমান এম.পি’র কাছের মানুষ থাকায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও লাভ করতে পারেননি অপূর্ব পাল। অপুর্ব পাল জানান, গত বছরের ১৭ অক্টোবর দূর্গা পূজার সময় তাদের পারিবারিক দূর্গা মন্দিরে ফজলু ও তার ছেলেরা তার উপর হামলা চালায় এবং মন্দির ভাংচুর করে। পরে অপূর্ব পাল বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

জয়গুরু ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী অমল পাল জানান তার দোকানটি পুড়ে যাওয়ার কারনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দোকানের পাশের আরো কয়েকটি দোকানও অগ্নিকান্ডের কারনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। সংখ্যালঘু হওয়ার কারনে আইনের আশ্রয় নিয়েও সুবিচার পাচ্ছেন না বলে জানান অমল পাল। এসময় তিনি সরকার ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে তার পুত্র অপূর্ব পালের হত্যার চেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল