ফেঞ্চুগঞ্জে দুই কোটি টাকার জমি আ’লীগ নেতার দখলে ! প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ফেঞ্চুগঞ্জে দুই কোটি টাকার জমি আ’লীগ নেতার দখলে ! প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

ফেঞ্চুগঞ্জে দুই কোটি টাকার জমি আ’লীগ নেতার দখলে ! প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

untitled-35_244391-600x330২৪ অক্টোবর ২০১৬ সোমবার: ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ২ কোটি টাকার ভূমি বেহাত হয়ে গেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে সরকারি ভূমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সরকারি ভূমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে ছিন্নমূল কয়েকজন হকারকে সরিয়ে দিয়ে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও সরকারি জায়গার ওপর স্থায়ীভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং প্রভাবশালীদের দখলকৃত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পূর্ব বাজারে উপজেলা ভূমি ও ইউনিয়ন তহসিল অফিস অবস্থিত। ছত্তিশ মৌজা জেএল নং ৬, দাগ নং ১০০২, প্রায় আড়াই একর ভূমি উপজেলা ভূমি অফিসের মালিকানাধীন হলেও ইতিমধ্যে ভূমি অফিসের প্রায় ৫৭ শতক সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।ভূমি কার্যালয়ের ১০০২ দাগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. মহসিন মিয়া সরকারি জায়গা দখল করে নিজের অনুগত লোকজনকে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে ভূমি কার্যালয়ের জায়গা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। শুধু ছিন্নমূল হকারদের উচ্ছেদ করে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি ১০০২ দাগের মধ্যে থাকা অবৈধ দোকানগুলো এখনও বহাল রয়েছে। ছিন্নমূল হকারদের উচ্ছেদ করায় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। খোলা আকাশের নিচে ভাসমান হকাররা ফলমূলের পসরা নিয়ে বসে আছেন। কুশিয়ারা নদীর তীরে এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ায় নৌকায় ওঠানামায় যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নির্মিত যাত্রী ছাউনির সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় যাত্রী ছাউনিও আড়াল হয়ে গেছে। ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মো. আবদুল বারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহসিনের খুঁটির জোর কোথায়? সরকারি কয়েক কোটি টাকার জমি দিন-দুপুরে মহসিন মিয়া দখল করে নিল অথচ প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিরুল ইসলাম মুরাদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উচ্ছেদের নামে ফুটপাতের হকারদের সরানো হলো অথচ স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা রেখে দেওয়া হলো। বিষয়টি পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে। অভিযুক্ত মো. মহসিন মিয়া বলেন, ১০০২ দাগে আমার কোনো দখল নেই। ১০০১ দাগে আমার দখল ও আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে। ১০০১ এবং ১০০২ দাগ চিহ্নিত না হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। জায়গাটি ডিমারগেশন করতে আমি আদালতের মাধ্যমে কমিশন চেয়েছি। অচিরেই জায়গাটির দাগ চিহ্নিত করা হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ১০০১ ও ১০০২ দাগ চিহ্নিত করে ১০০২ দাগের মধ্যে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল