ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল আজারবাইজান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল আজারবাইজান

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল আজারবাইজান

অনলাইন ডেস্ক

নাগোরনো-কারাবাখকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আইনপ্রণেতাদের ভোটাভুটির ঘটনায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান। বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে তলব করা হয়েছে। খবর-ইউরো নিউজের।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আজারবাইজানের নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জাকারি গ্রোসকে সমন জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২৫ নভেম্বর সিনেটে নাগোরনো-কারাবাখ প্রজাতন্ত্র স্বীকৃতি প্রয়োজন শীর্ষক একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণ করায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানায় আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিবাদে বলা হয়, এই রেজ্যুলেশনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে আজারবাইজান; এটা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ, হেলসিনকি আইন এবং ১৯৯৩ সালের জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিয়ম ও নীতি বিরুদ্ধ।

বিরোধীয় কারাবাখ নিয়ে ফ্রান্স সিনেটরদের এমন ভোটাভুটির প্রতিবাদ আজারবাইজানের সংসদে ফ্রান্সের প্রতি নিন্দা জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার দেশটির সিনেটরা এ বিরোধীয় অঞ্চলটিকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের স্বীকৃতি দিতে একটি রেজ্যুলেশন পাস করে। এতে দেশটির সরকারকে নাগোরনো-কারাবাখকে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানানো হয়।

কয়েক দশক ধরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আন্তর্জাতিকভাবে ওই অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিবেসে স্বীকৃত। কয়েক দশক থেকে এলাকাটিতে দখলে থাকা আর্মেনীয় নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে আসছে।

১৯৯০ এর দশকে এই অঞ্চলটি ঘিরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধ থামে।

সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ৪৪দিন টানা যুদ্ধে আজারবাইজান ৩০০টি বসতি ও এলাকা দখলমুক্ত করে। আজেরি সেনাবাহিনীর একের পর এক হামলার মুখে আর্মেনীয়রা ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে। ফলে যুদ্ধ ছাড়াই কয়েকটি শহরের দখল পায় আজারবাইজান।

এ চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের বিজয় হিসেবে দেখা হয়। এ চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক।