“বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন”

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২২

“বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন”

লেখক: সামান্তা রহমান অন্তরা:

জাতীয় জীবনে এমন দু’একটি দিন আসে যা আপন মহিমায় উজ্জ্বল। তেমনি একটি দিন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস । আজকে বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসে এক গুরুত্ববহ দিন। পাশাপাশি বাঙালির অনন্য একটি দিবস।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন স্বাধীন বাংলাদেশে। এইদিন। শুরু হয়েছিলাে স্বাধীন বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণার পর মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁকে থাকতে হয় পাকিস্তানের কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে। এই সময় প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয় মহান এই নেতাকে। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটি এখনও অনেকের মনে গভীর আনন্দের স্মৃতি হয়ে আছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির জন্য একটি বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে বাঙালি যখন বাস্তবতার মুখােমুখি-তখন পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। ২৯০ দিন পাকিস্তানের। কারাগারে মৃত্যুযন্ত্রণা শেষে লন্ডন-দিল্লী হয়ে মুক্ত ও স্বাধীন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি।

১০ জানুয়ারি বিকেলে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০লাখ লোকের সামনে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আমায় আপনারা পেয়েছেন। আমি আসছি। জানতাম না আমার ফাঁসির হুকুম হয়ে গেছে আমার সেলের পাশে, আমার জন্য কবর খোড়া হয়েছিলো। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম, বলেছিলাম আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, মুসলমান একবার মরে দুইবার মরে না। আমি বলেছিলাম, আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো। আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাবো না, তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না। এবং যাবার সময় বলে যাবো জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল