বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র দুই অংশ একীভূত হচ্ছে ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র দুই অংশ একীভূত হচ্ছে !

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র দুই অংশ একীভূত হচ্ছে !

বিশেষ প্রতিনিধি 

জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র বিভক্ত দুই অংশ আবার একীভূত হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দুই পক্ষ এক সাথে কাজ করার লক্ষ্যে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরস্পরের মধ্যে আলোচনা শুরু করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে সেই প্রক্তিয়া করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেলেও আলোচনা অব্যাহত থাকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি আবার দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এবং করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই প্রক্রিয়া বাস্তবে রূপ পাবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দুই পক্ষের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। একটি বিশ্বস্থসূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতি শুরু হবার আগে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার দুই পক্ষের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক রূদ্ধদ্বার সভা হয়। মগবাজারের একটি রেস্তোরায় দীর্ঘ ৪ ঘন্টা আলোচনা হয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার দুই পক্ষের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে। দুপক্ষ একীভূত হবার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছে। কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ নুতনের কাছে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার দুই পক্ষ একীভূত হবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির আগে দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় বসেন। কোন রকম শর্ত ছাড়াই দুই পক্ষ একীভূত হবার বিষয়ে একমত হন। ঢাকার বৈঠকে কে কে শীর্ষ নেতা অংশ নেন, এ বিষয়ে তিনি আপাতত বলতে চান না। আরেকটি সূত্র জানায়,ঐ বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন সংগঠনের দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মহীউদ্দিন মানু,মিয়া মনসফ, দুই পক্ষের কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ মনিরুজ্জামান লিটন,স্বপন সাহা, সুনীল কুমার মালো ও মঞ্জুর আলম। সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল লতিফ নতুন আরো বলেন, তাঁর সাথে ঢাকার বৈঠকে অংশগ্রহনকারী দুপক্ষের দুজন শীর্ষ নেতার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা দুজনেই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আমাদের প্রতিবেদক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিয়া মনসফের প্রতিক্রিয়া প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একীভূত হওয়ার বিষয়ে তিনি মৃদু হেসে বলেন,খন্ডিত শক্তি কখনো ভাল কিছু করতে পারেনা। তাই একীভূত হবার কোন বিকল্প নাই। কবে নাগাদ এই একীভূত হবার প্রক্রিয়া শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সূর্য উঠলে তো তার আলো আটকে রাখা যাবেনা। যা হবে প্রকাশ্যেই হবে। এখানে লুকোচুরির কিছুই নাই। এ প্রতিবেদক বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে টেলিফোনে যোগযোগ করে একীভূত হবার বিষয়ে জানতে চাইলে, কেউ এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান। তবে সকলেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দেরীতে হলেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন জেলার বেশ ক’জন নেতা বলেন বলেন ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ঐক্য হলেই আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী,জাতির জনকের কন্যা,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বের মত আবার আমাদের অনুষ্ঠানে আসবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন নেতা বলেন আক্ষেপ করে বলেন বিগত দিনে যে সব কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্য্যায়ে ক’জন নেতা সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন বিভাজন সৃষ্টি করেছেন তাদের বিতাড়িত করতে হবে। তাদের বিগত ১০ বছরের আর্থিক লেনদেন হিসাব গোয়েন্দা নজরদারীতে নিলে সংগঠনকে বিভাজন করার মূল রহস্য বের হবে। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্য্যায়ে সংগঠনের কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদী নেতার গোয়েন্দা রির্পোট একান্ত দরকার। গোয়েন্দা নজরদারী হলেও কেচু খূড়তে সাপ বের হয়ে আসবে আর সুবিধাবাদীদের মুখোশ উম্মোচন হবে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কমিটি দুই ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১০ দুইটি গ্রুপ আলাদা আলাদা সংগঠনের কাজ চালিয়ে যায়। ১০ বছর পর দুই পক্ষই একীভূত হবার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অপেক্ষায় সারাদেশের হাজারো নেতাকর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •