বদরুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত! ছেলের বিচার চান বদরুলের মা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বদরুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত! ছেলের বিচার চান বদরুলের মা

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৬

বদরুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত! ছেলের বিচার চান বদরুলের মা

dsc_04424444444333৬ অক্টোবর ২০১৬. বৃহস্পতিবার: বদরুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমের ওপর হামলাকারী বদরুল আলমকে আয়াজুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জরুরি সভা ডেকে বদরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ বিদ্যালয়ে সাঁটানো হয়। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের সৈদেরগাঁওয়ে অবস্থিত।

বিকেল চারটার দিকে যোগাযোগ করলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মখলিছুর রহমান প্রথম আলোকে বদরুলকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২০১২ সালে তাঁর ভাই আয়াজুর রহমানের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বদরুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক পদে ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এখানে যোগ দেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরও বলেন, ‘খাদিজার ওপর হামলার ঘটনায় আমাদের বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। বদরুল আলমের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক—এটা আমরাও চাই। এ জন্য তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

গত সোমবার বিকেলে সিলেট এমসি কলেজের পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর খাদিজাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল। খাদিজার সহপাঠীসহ স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।

বদরুল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। খাদিজাকে প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এক দফা অস্ত্রোপচার শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। খাদিজার অবস্থা সংকটাপন্ন।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে সিলেটের শাহপরান থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। গতকাল বুধবার বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে রাগের মাথায় তিনি খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপান। জবানবন্দি দেওয়ার পর বদরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ছেলের বিচার চান বদরুলের মা

‘আমার অউ পোয়াটাই (ছেলে) সংসারের বাত্তি আছিল। এখন আমরারে সাগরে ভাসাইয়া গেল। কিলা অত বড় খামটা করল! হে (বদরুল) দোষী অইলে তার বিচার আমিও চাই। মেয়েটার (খাদিজা) লাগি দিন-রাইত দোয়া খররাম। আল্লায় যেন তারে বাঁচাইন।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন দিলারা বেগম (৫০)। তিনি সিলেটের এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগমকে আহত করা ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের মা। গত সোমবার কুপিয়ে আহত করা খাদিজা বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের মনিরগাতি গ্রামে বদরুল আলমের বাড়ি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বদরুল দ্বিতীয়।

দিলারা বেগম বলেন, সোমবার সকাল সাতটার দিকে বদরুল বাড়ি থেকে বর হন। মাকে বলে যান স্কুল বন্ধ, টিউশনি করতে যাচ্ছেন। রাতে বাড়ি ফেরেননি। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা খবর পান, বদরুল সিলেটে এক মেয়েকে কুপিয়েছেন। বদরুল বাড়িতে থাকলেও নিয়মিত সিলেটে যাওয়া-আসা করতেন।