‘বলির পাঠা’ হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সজিব – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

‘বলির পাঠা’ হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সজিব

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২২

‘বলির পাঠা’ হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সজিব

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অবশেষে বলির পাঠা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিব। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাে. রফিকুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মােস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল এ সিদ্ধান্ত অনুমােদন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিবকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মােস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমােদন করেন।’

যদিও হামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও ইন্ধন ছিল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের শীর্ষ কয়েক নেতার।কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।হামলাকারীদের পৃষ্টপোষক বলে পরিচিত বিএনপি চেয়ারপার্সনের সিলেটি এক উপদেষ্ঠা তাদের বাঁচাতে রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করেছেন বলেও গুঞ্জণ চলছে বিএনপি পরিবারে।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ, সহযোগি সংগঠনে শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিশ্চুপ থাকলেও সাধারণ নেতাকর্মীরা বিএনপির শীর্ষ সারির নেতার ওপর অপমানজনক হামলার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। তাদের মতে, আগামীদিনে যারাই বিএনপি চেয়ারপার্সনের আলোচিত ওই উপদেষ্ঠার বিরুদ্ধাচরণ করবেন-এমদাদ চৌধুরীর মতো তারাও একই ধরণের পরিণতির শিকার হতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর ভাতালিয়াস্থ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালি পংকির বাসায় মহানগর বিএনপির ইফতার আয়োজন ও প্রধান অতিথি কাকে রাখা যায়-তা নিয়ে সভা চলছিল।এসময় সভাকক্ষেই স্বেচ্ছাসেবক দলের একপক্ষের হাতে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। আম্বরখানা ও চৌখিদেখি এলাকা থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের একদল নেতাকর্মী সভাকক্ষে ঢুকে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরের একটি ঘরের এনে মারধরও করা হয়। এতে এমদাদ চৌধুরী আহত হন।

মারধরের পর রাতেই এমদাদ হোসেন চৌধুরীর বাসায় ছুটে যান হামলাকারীদের নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সঙ্গে ছিলেন সিলেটে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তারা গিয়ে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে সান্ত্বনা দেন।

যদিও মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে অতিথি করা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধে। লন্ডন থেকে নির্দেশনা আসে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করতে। কিন্তু একটি পক্ষ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অতিথি করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করা হলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অবস্থান প্রটোকলে নিচে নেমে যাবে। যে কারণে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কামাল হাসান জুয়েল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালসহ তাদের বলয়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় তাদের মতের বিরোধিতা করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ কারণেই সভাকক্ষে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ডিম নিক্ষেপ ও মারধর করা হয়।

দলীয় সূত্রমতে, এমদাদ হোসেন চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং ইন্দনদাতা স্বেচ্ছাসেবক দলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসে দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামলাকারী ও তাদের মদদদাতারা রক্ষা পেলেও বলির পাঠা বানানো হয় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিবকে। তাকে মঙ্গলবার বহিষ্কার করা হয় দলীয় পদ থেকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল