বহুল আলোচিত বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির শুনানি রবিবার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বহুল আলোচিত বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির শুনানি রবিবার

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৭

বহুল আলোচিত বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির শুনানি রবিবার

বহুল আলোচিত নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করা নিয়ে মাসদার হোসেন মামলার শুনানি আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। আদেশের জন্য মামলাটি আপিল বিভাগের রবিবারের কার্যতালিকায় এক নম্বরে রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ শুনানি ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান বিচারপতি এক মাসের ছুটিতে থাকায় আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।

গেজেট প্রকাশ নিয়ে অসংখ্যবার সময় নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি।’

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে ৩ অক্টোবরের মধ্যে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনায় বসারও প্রস্তাব দেয় আপিল বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী আলোচনায় বসার কথা বললেও পরে আইনমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সে বৈঠক হয়নি।

আলোচনায় না বসায় সর্বশেষ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত তারিখে কী করা হবে, বলা হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কার সঙ্গে, কে কে থাকবেন? আপনারা আলাপ-আলোচনা পর্যন্ত করলেন না।’

এর আগে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করে আপিল বিভাগ। এছাড়া রাষ্ট্রপতি একটি পরিপত্র জারির মধ্যে শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে পরিপত্র জারি করলে আপিল বিভাগ বলেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবেই বলেই আদেশ দেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এর পরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ওই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত বছরের ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বলে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগরে ধীরগতির অন্যতম কারণ। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মত বিচারক নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।