বাংলাদেশীদের দেশে ফেতর পাঠানো প্রসঙ্গে ইতালি থেকে জাকির আহমদ

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৭

বাংলাদেশীদের দেশে ফেতর পাঠানো প্রসঙ্গে ইতালি থেকে জাকির আহমদ

ইতালী কালাবেরিয়ার একটি শরণার্থী আশ্রয় শিবির কর্তৃপক্ষ আশ্রিত অভিবাসীদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল। পুলিশ, সাংবাদিক ইতালীয়ান বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষসহ বিভিন্ন দেশের মানুষে খুব জমে উঠেছিল খেলার পরিবেশটা।

বাংলাদেরও একটি টিম ছিল। বাংলাদেশ খুব ভালো মানের ফুটবল খেলতে পারেনা এটা আমরা জানি তারপরও বাংলাদেশ টিম খেলায় অংশগ্রহন করলো আফ্রিকার দেশ ঘানার বিপরীতে। সে কি উত্তেজনা বলে বুঝানো যাবেনা। প্রায় সবার হাতে বাংলাদেশের পতাকা, শুভ কামনা বাংলাদেশ লেখা প্লেকার্ড। লক্ষ করলাম বেশ কয়েকজন ইতালিয়ানের হাতে বোয়ানা ফরচুনা বাংলাদেশ (শুভকামনা বাংলাদেশ) লেখা প্লেকার্ড এবং বাংলাদেশের পতাকা। বাংলাদের মূল পতাকাবাহীর সাথে ছবি তুলছে সেলফী তুলছে। বাংলাদেশ টিম খুব একটা ভালো করতে পারেনি। তাপরও ইতালিয়ানরা আমাদের সমর্থন দিয়ে বলছিল অনেক ভালো চেষ্টা করেছ। এশিয়ার মাত্র দুই টিম বাংলাদেশ এবং ইরাক। ভারত, পাকিস্তান বা অন্যকোন এশিয়ান দল নাই। তোমরা অনেক সাহস দেখিয়েছ। তোমরা ভাল করবে।

গ্যালারীতে যত দর্শক ছিল তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের সমর্থক ছিল। বাংলাদেশের প্রতি এমন ভালবাসা দেখে আমি একজন ইতালিয়ানকে প্রশ্ন করলাম আপনি বাংলাদেশর পক্ষে কেন? তিনি উত্তর দিলেন, বাংলাদেশীরা অনেক পরিশ্রমী আর আত্মবিশ্বাসী। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, আমি আজকের খেলার বিষয়ে বলছি?

ইতালীয়ান বললেন, আমি সকল দেশের মানুষ থেকে বাংলাদেশীদের পছন্দ করি কারণ তারা বিশ্বস্ত আর শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমিক তাই সব জায়গায় আমি তাদের সমর্থন করি।

তারপর আরো কিছু আলাপ-আলোচনা করে ব্যস্ততার রাজ্যে চলে এলাম। আমি ইউরোপের অন্যান দেশের অবস্তা বলতে পারি না তবে ইতালীতে যে বাংলাদেশীদের একটা অন্যরকম সুনাম আছে এটা হলফ করে বলতে পারি।

বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জানতে পারলাম ২৭ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইইউ(ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এর উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে অবস্তান করবে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অবস্তানরত তিরানব্বই হাজার বাংলাদেশীকে দেশে ফেতর পাঠানো নিয়ে চুক্তি করতে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ নাকি ইতিমধ্যে ঐ তিরানব্বই হাজার লোক ফিরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত দেশের বৃহৎ স্বার্থ বিবেচনা করে। শুধু তার আগে যাচাই বাচাইয়ে জন্য যৌক্তিক সময় দাবী করেছে বাংলাদেশ। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত অবৈধদের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বাংলাদেশকে বলেনি তবে ইউরোস্ট্যাট এর প্রকাশিত সংখ্যা তিরানব্বই হাজারে বাংলাদেশ মৌন সম্মতি পেশ করেছে।

তথ্যগুলো কতটুকু কার্যকরী জানিনা যদিও ইতিপূর্বে অনেকবার ইইউ চেষ্টা করেছে লোক ফেরত পাঠাতে কিন্তু পারেনি।

যদি তথ্যগুলো সত্যি হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করবো আপনারা ভাবুন,দয়াকরে ভেবে দেখুন আরেকবার। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ায় প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশ এখনো তিরানব্বই হাজার মানুষ কে একযোগে কিছুদিনের মধ্যে কর্ম জোগান দেওয়ার মতো অবস্তানে দাড়াতে পারেনি বা একসাথে তিরানব্বই হাজার মানুষ উচ্চ বেতনের চাকরী ছেড়ে দেশে আসলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার অর্থনীতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।

ইউরোপে অবস্তানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিমাসে গড়ে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার টাকা রেমিটেন্স প্রেরণ করে থাকেন।

ইউরোপে অবস্তানরত একজন মানুষের আয়ের উপর দুই থেকে পাচঁটি পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। বাবা-মায়ের চিকিৎসা, পরিবারের খরচ, সন্তান বা ভাই-বোনদের লেখাপড়া এবং সমাজের আর্থ- সামাজিক উন্নায়নে নিজেদের বিলীন করে ভুলেই গিয়েছিলেন যে ডকুমেন্ট নবায়ন করতে হবে।

শুধু কাজ করে গেছেন দেশে টাকা পাঠিয়েছেন, সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছেন। এখন যদি দেশে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে ঐ পরিবারগুলো কি হাল হবে একটু ভেবে দেখুন।

বোন বা মেয়ের বিয়ে দিব কেমনে? বাবা -মায়ের চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া,পরিবারের খরচ আসবে কোথায় থেকে? এরাতো দেশে গিয়ে কিছুই করতে পারবে না। পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তারা অপরাধে জড়িয়ে পরতে পারেন এমনকি আমি এমনও বলতে শুনেছি দেশে ফিরে গেলে তারা নাকি আত্মঘাতী হবেন!

আপনারা দয়া করে আরেকটু ভাবুন! তিরানব্বই হাজার লোক,অনেক লোক বিশাল রেমিটেন্স ভান্ডার।
সরকার চাইলে কি না করতে পারে! আর বর্তমান সরকার খুবই বিজ্ঞ সরকার। বিদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ সরকারের উজ্জল ভাবমূর্তী। আপনারা চাইলে আমাদের অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মাধ্যমে আলোচনা করে বিকল্প পথ বের করে মানুষগুলোর একটা ভালো ব্যবস্থা করেন। দেশে ফিরিয়ে না এনে অবৈধ সহ বৈধতা প্রত্যাশীদের বৈধতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দিন।

এই মানুষগুলোকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পঙ্গ করে দিবেন না। ধ্বংস করে দিবেন নায় তাদের সচ্ছল পরিবারকে।

ইউরোপীয়রা একরোখা, একবার যদি মানুষ ফিরিয়ে নেন তাহলে তারা রাস্তা পেয়ে যাবে পরেরবার আর না বলেই অবৈধদের ধরেধরে পাঠিয়ে দিবে তখন আর কিচ্ছু করার থাকবে না। দয়া করে এদের রাস্তা শিখাবেন না। আপনারা আলোচনা করে অবৈধ এবং বৈধ প্রত্যাশীদের বৈধ করার ব্যবস্থা করুন।বাংলাদেশীরা শান্ত এবং তুলনামূলকভাবে অপরাধ করে না বললেই চলে। ইউরোপে আরো বিভিন্ন দেশের অবৈধ লোক আছে যারা বিভিন্ন অপরাধ করে, দেশে রেমিটেন্স পাঠায়না বাংলাদেশীদের মতো তারপরও তারা তাদের লোকদের ফেরত নিচ্ছে না। তাহলে বাংলাদেশ কেন নিবে?

বাংলাদেশকে হুমকি কিংবা লোভ দিচ্ছে আপনারা এটাকে অন্যভাবে মোকাবেলা করুন।তাদের এ প্রস্তাবে সাড়া দিবেন না দয়া করে। প্রায় পাচঁলক্ষ পরিবারকে বাচাঁন আপনারা। ফসলহানী এবং বন্যায় দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে এ অবস্তায় এতগুলো মানুষ দেশে গেলে থমকে যাবে, বড় একটা ধাক্ষা খাবে আমাদের রেমিটেন্স সেক্টর।

ফসলহানী এবং প্রকট আকারের বন্যা দেখিয়ে আপনারা ইইউ( ইউরোপীয় কমিশন) এর নিকট বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আবেদন করতে পারেন।
এতগুলো মানুষ দেশে এসে কি করবে বলুন?

জানিনা বার্তাটা মূল জায়গা পর্যন্ত পৌছাবে কি না?