বাংলাদেশে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কূটনীতিকরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাংলাদেশে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কূটনীতিকরা

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৬

বাংলাদেশে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কূটনীতিকরা

download (4)বাংলাদেশে অবস্থানরত নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলির সঙ্গে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক বৈঠকে রাষ্ট্রদূতরা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের ব্রিফ করছিলেন মাহমুদ আলি।
বৈঠকে কয়েকজন রাষ্ট্রদূত তাদের নিজস্ব, দূতাবাস স্টাফ এবং তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সময় কূটনীতিক পাড়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত তার যেসব নাগরিক বাংলাদেশে ব্যবসা ও চাকরি সুবাদে অবস্থান করছেন তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাদের নিরাপত্তা চান।
ডি কে হং নামে যে কোরিয়ান নাগরিক হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর পাশে থাকতেন এবং গোটা ঘটনাটি ভিডিও করেছেন, তার নিরাপত্তার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গুলশান হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও রাষ্ট্রদূতরা প্রশ্ন তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে যাবার পরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের শ্রদ্ধা জানানোর পরে হঠাৎ করে গ্যালারির দর্শকরা লাফ দিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে এবং কয়েকজন রাষ্ট্রদূত এতে ভয় পেয়ে যান।
বৈঠকে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ঢাকা শহরে কয়েকটি জায়গা যেমন কয়েকটি রেস্টুরেন্ট বা সুপার মার্কেট যেখানে তার দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করেন সেগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে বলেন।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং সেখানে তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, এখন সময় এসেছে সন্ত্রাসবাদ দমনে একসঙ্গে সবাইকে কাজ করার এবং এজন্য তারা সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত এ ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে দুই দিনের শোক দিবস ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ দেন। বৈঠকে ফ্রেঞ্চ, ইন্দোনেশিয়ান, কানাডিয়ান ও মালয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূত বক্তব্য রাখেন।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার অনুভূতি ও চিন্তা-ভাবনা কূটনীতিকদের সঙ্গে বিনিময় করেন। সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এটি মোকাবেলা করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের কাছ থেকে সন্ত্রাসবাদ দমনে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে পরামর্শ চান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল