বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস ঐতিহ্যর ৭০ বছর-ইমরান চৌধুরী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস ঐতিহ্যর ৭০ বছর-ইমরান চৌধুরী

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৮

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ইতিহাস  ঐতিহ্যর ৭০ বছর-ইমরান চৌধুরী

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই দূরদর্শী চিন্তাধারা দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্র সংগঠন দরকার, যে সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের সকল দাবি দাওয়া আদায় করে আমাদের মুক্তির দিকে এগিয়ে নিবে। কেননা, পূর্ব পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই জাতির জনক বুঝতে পেরেছিলেন ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করলেও দেশ পুনরায় আরেকটি শোষক গোষ্ঠীর হাতে পরেছে। তাই তিনি বলেছিলেন, দেশ আজ এক শকুনের হাত থেকে অন্য শকুনের হাতে। জাতির জনক ছিলেন একজন দুরদর্শী নেতা, উনার দূরদর্শী চিন্তা চিল শতভাগ সঠিক। পাকিস্তানীরা আমাদেরকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র সহ সকল ক্ষেত্রে আমাদের সাথে করছে বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণ। এই বিমাতাসুলভ আচরণকে প্রতিহত করে আমাদের মুক্তির পথকে সুগত করতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সভাকক্ষে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নামে আজকের ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির জনকের স্বপ্নপূরণে ভ্যান গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ছাত্রলীগের অবদান জাতি সব সময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তাছাড়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৬ সারের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধে ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এবং ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী জীবন দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক দিক নির্দেশনা মোতাবেক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছিল। কিন্তু, হঠাৎ করে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটল একটি নির্মম, বর্বর ও ঘৃণিত ঘটনা। দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে হত্যা করা হল আমাদের মহান নেতা, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ হত না, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নেতা হারা ছাত্রলীগ অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসলেন, তখন ছাত্রলীগ যে নতুন করে প্রাণ পেল। জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় ছাত্রলীগ সুসংগঠিত হয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের সকল আন্দোলনে ছাত্রলীগের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি দীর্ঘ সময়ের শিক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে একটি সহজলভ্য, বৈজ্ঞানিক, গণমূভী, বৃত্তিমূলক, কারিগরি, মাতৃভাষা ভিত্তিক সর্বজনীন শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে আর্থ সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি ধারাকে অব্যাহত রেখে বর্তমানে ছাত্রলীগ বিশ্বের একটি বৃহৎ সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের এই এগিয়ে যাবার পেছনে রয়েছে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা। তিনি ছাত্রদের হাতে খাত, কলম তুলে দিয়েছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। নীতি ও আদর্শের চর্চা করে নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কর্তব্যবোধ থাকতে হবে। কী পেলাম আর কি পেলাম না সে হিসেব না করে দেশকে কী দিতে পারলাম, দেশের মানুষের জন্য কি করতে পারলাম সে হিসেব করতে হবে। ছাত্র হিসেবে তোমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে লেখাপড়া করা। নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকা। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও শান্তির দেশে পরিণত করতে চান। এজন্য ছাত্র লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে পড়ালেখা করে এবং জাতির জনকের আদর্শকে বুকে ধারণ করে সততা ও নিষ্টার সাথে আগামীতে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান। একজন ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী হিসেবে আমাদের উচিত জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আগামীতে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে আমরা জাতির জনকের আদর্শকে বুকে ধারণ করে সততা, দক্ষতা ও নিষ্টার সাথে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে নিজেদের উৎসর্গ করা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সিলেট জেলা।