বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে,ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে,ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৬

বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে,ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

‘ব্রিটেন ওয়ান্টস টু বি অ্যা পার্ট অব বাংলাদেশ সাকসেস স্টোরি’- ঠিক এভাবেই কথাটি বলেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আর সে কথাটি তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের উন্নয়নে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ উন্নীত করায় তার সব বিস্ময় প্রকাশ করে এই উন্নয়ন গল্পের অংশ হওয়ার আগ্রহই প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকটি শুক্রবার (২৭ মে) অনুষ্ঠিত হয় জাপানের কাশিকো দ্বীপের শিমা কানকো হোটেলের হাজি হলে। জি-৭ শীর্ষ সম্মলনে যোগ দিতে ডেভিড ক্যামেরন আর এই সম্মেলনের আউটরিচ প্রোগ্রামে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জাপানে অবস্থান করছেন। ইসে-শিমা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে তাদের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকটি হয় স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টায়।

পরে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এবং টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

আবুল কালাম আজাদ জানান, যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ডিএফআইডি) মাধ্যমে যুক্তরাজ্য যে উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে সে কথা উল্লেখ করেন ডেভিড ক্যামেরন। এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।

আর শহীদুল হক জানান, আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিস্ময় প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন। তিনি জানতে চান, অব্যাহত এই অর্জন কীভাবে সম্ভব হলো?

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রবৃদ্ধি একবারে ৬ থেকে ৭ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন টানা ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এরপর এক-দুই পয়েন্ট করে ধাপে ধাপে এগিয়ে তবেই ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশি ডায়াসপোরারাও এখন বড় অংকের বিনিয়োগ করছে বলে এতে উঠে আসে। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তখন আগ্রহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে, এই উন্নয়ন গল্পে অংশ হতে চায় তার দেশ।

দুই সচিব জানান, আলোচনা চলাকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত থাকবে কি না এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শেখ হাসিনার পরামর্শ চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্রিটিশ জনগণ নেবে। তবে তিনি মনে করেন, বিশ্ব যখন আরও একীভূত হওয়ার পক্ষে, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি কার্যকর জোট থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়া উচিত হবে না।

ক্যামেরনকে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেলে গোটা ইউরোপে বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হবে। তাছাড়া, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও অপর দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী ও রূপা হকও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ব্রিটেনের পক্ষে। সুতরাং এই জোটের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না বলেও মতামত জানান প্রধানমন্ত্রী।13296289_1184891764874900_851884951_n

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল