বাংলায় লেখা হবে খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাংলায় লেখা হবে খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৭

বাংলায় লেখা হবে খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ মার্চ। এই রায় সম্পূর্ণ বাংলায় লেখা হবে।

রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের পর রোববার দুপুরে এমনটি জানিয়েছেন সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় পড়া শুরু হবে।

এরআগে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৮ মার্চ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা।

সরকার ও প্রশাসনের সব দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি গাড়ির নম্বরপ্লেট, সাইনবোর্ড, নামফলক ও টেলিভিশনে প্রচারিত সব বিজ্ঞাপন বাংলায় লেখার বিষয়ে হাই কোর্ট থেকে আদেশ এসেছে একাধিকবার। রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে বা বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধে রুলও জারি হয়েছে। তবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার উদ্যোগ উচ্চ আদালতেই গতি পায়নি। আদালতের বেশিরভাগ রায়ই লেখা হয় ইয়রেজিতে।

তবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাংবাদিকদের কাছে ‘উচ্চ আদালতে শিগগিরই সব রায় বাংলায় লেখার কাজ শুরুর আশা’ প্রকাশ করেছেন।  এ জন্য ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করা যায় এমন যন্ত্র খুঁজছেন বলেও জানান তিনি।

১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাই কোর্ট বিভাগ) রুলস-এ সুপ্রিম কোর্টের যে কোনো আবেদন ইংরেজিতে করার বিধান ছিল। সেই নিয়ম সংশোধন করে সেখানে ‘ইংরেজি অথবা বাংলায়’ আবেদন করার কথা বলা হলেও এখনও অধিকাংশ আবেদনও নথির কাজ চলে ইংরেজিতে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে বাংলা চালু হলেও এখনও আদালতে তা না করতে পারায় সেদিন দুঃখ প্রকাশও করেন প্রধান বিচারপতি।

গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতকক শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। খাদিজাকে কোপানোর দায়ে ঘটনাস্থল থেকে জনতা শাহজালাল বিশ্ববদ্যিালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। বদরুলের চাপাতির আঘাতে খাদিজার মাথার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কও জখম হয়। খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

হামলার পর প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ও পরে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় খাদিজাকে। সেখানে ৪ অক্টোবর বিকালে অস্ত্রোপচার করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় খাদিজাকে। পরে ১৩ অক্টোবর তার লাইফ সাপোর্ট খোলার পর ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়া তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর শরীরের বাঁ পাশ স্বাভাবিক সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য স্কয়ার থেকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয়। সিআরপিতে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন কলেজ খাদিজা।

এদিকে, ঘটনার পরদিন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দন্ডবিধির ৩০৭, ৩২৪ ও ৩২৬ ধারায় শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামী করে মামলা করেন। ওইদিনই বদরুলকে বহিস্কার করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বদরুল। ৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন খাদিজা। এরমাধ্যম্যে মামলার ৩৬ সাক্ষীর ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে ও খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল