বাবার কাঁধেই শিশুর মৃত্যু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাবার কাঁধেই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৬

বাবার কাঁধেই শিশুর মৃত্যু

antorrjatik-38dd৩০ আগস্ট ২০১৬. মঙ্গলবার: ভারতের উত্তরপ্রদেশের লাল লাজপথ রাই সরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটেছিলেন ঊড়িষ্যার দানা মাঝি। এবারও একই ধরণের অভিযোগ উঠলো সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

লাল লাজপথ রাই হাসপাতাল ভর্তি না নেওয়ায় বাবার কাঁধেই মৃত্যু হল ছোট্ট শিশু আনশ কুমারের (১২)। গতকাল সোমবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কানপুরের বাসিন্দা সুনীল কুমারের শিশু সন্তানকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। উল্টে বেশ কিছুটা সময় পরে সন্তানকে অন্য কোন শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কথা বলা হয়।

কিন্তু গরীব বাবার পক্ষে সন্তানকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা না থাকায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিজের কাঁধে সন্তানকে চাপিয়ে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য হাঁটা শুরু করেন।

এরপর লালা লাজপথ রাই হাসপাতাল থেকে ২৫০ মিটার দূরে শিশু হাসপাতালে যখন পা রেখেছেন সুনীল, ততক্ষণে বাবার কাঁধেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট আনশ।

জানা গেছে, গত রোববার রাতে হঠাৎ করেই জ্বরে আক্রান্ত হয় আনশ্। ওই রাতেই ফজলগঞ্জে স্থানীয় চিকিৎসককে দেখান সুনীল কুমার। কিন্তু তাতেও জ্বর না কমায় সোমবার সকালেই লালা লাজপথ রাই হাসপাতালে সন্তানকে নিয়ে আসেন সুনীল।

সুনীল জানান, আমি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে আমার সন্তানকে পরীক্ষা এবং তাকে ভর্তি করানোর জন্য অনুরোধ জানাই। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয় সন্তানকে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে। সন্তানকে সরাতে একটি স্ট্রেচারের জন্যও অনুরোধ জানাই, কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করে। এরপরই কাঁধে নিয়েই আমি শিশু হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হই, কিন্তু সেই হাসপাতালে পৌঁছনো মাত্রই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

এরপর সন্তানের লাশ কাপড়ে বেঁধে নিজের কাঁধে নিয়েই বাড়ির উদ্যেশ্যে রওয়ানা হন সুনীল।

লালা লাজপথ রাই মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের প্রিন্সিপাল নবনীত কুমার অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। আর গত এক সপ্তাহের মধ্যে এরকম কয়েকটি ঘটনায় ভারতের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল