বাবার মৃত্যুতে চিকিৎসকের ওপর চড়াও, ছেলের দণ্ড – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাবার মৃত্যুতে চিকিৎসকের ওপর চড়াও, ছেলের দণ্ড

প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৬

বাবার মৃত্যুতে চিকিৎসকের ওপর চড়াও, ছেলের দণ্ড

sylhetসিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। মৃত রোগীর স্বজনেরা ওই বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন। এ নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বচসা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়।
গতকাল শনিবার ভোর চারটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত এ নিয়ে উত্তপ্ত ছিল হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগ। এ ঘটনার বিচার চেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিলে শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে বচসাকারী মৃত রোগীর ছেলেকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মকবুল (২৮)। তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রোগী আতিকুর রহমানের (৫৫) ছেলে।
হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, সিসিইউ একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এখানে চিকিৎসকের অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও এমন অভিযোগ তোলার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হাসপাতাল, পুলিশ ক্যাম্প ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আতিকুর রহমানকে ১৬ জুন হৃদ্রোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সিসিইউতে দুদিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল ভোর চারটায় তাঁর অবস্থার অবনতি হলে মকবুল সিসিইউতে কর্তব্যরত দুজন রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু ‘সকাল হলে দেখা যাবে’ বলে জানিয়ে দেন তাঁরা। এর কিছুক্ষণ পর রোগী মারা যান। এর পরপরই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং দুই চিকিৎসককে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে মকবুলকে আটক করে।
সকাল নয়টার দিকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা জরুরি সভা করে চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী আটক রোগীর স্বজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় তাঁরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বানের ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আহ্বানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাষ্যসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম রেজাউল করিম মৃত রোগীর স্বজন মকবুলকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।