বালাগঞ্জে নেটওর্য়াক ভোগান্তির শেষ কোথায়? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বালাগঞ্জে নেটওর্য়াক ভোগান্তির শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

বালাগঞ্জে নেটওর্য়াক ভোগান্তির শেষ কোথায়?
মো. কাজল মিয়া
টাওয়ার আছে কিন্তু নেটওয়ার্ক নেই। আর টাওয়ার নেই এসব এলাকায় মোবাইল ফোনগুলো প্রাণহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। নেটওয়ার্কের এমন নাকাল দশায় আছেন বালাগঞ্জ উপজেলাবাসী। মোবাইল অপারেটরগুলোর দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে এখানকার গ্রাহকরা ডিজিটাল ভোগান্তিতে রয়েছেন। উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে একই স্থানে গ্রামীণ, বাংলা লিংক ও রবি-এয়ারটেলের টাওয়ার রয়েছে। কিন্তু টাওয়ার থাকলে কী হবে। এই টাওয়ারগুলোর ২শ ফুট দূরবর্তী বাড়িতে নেটওয়ার্ক নেই। টাওয়ার নিকটবর্তী বাড়ির বাসিন্দা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা সাবেক সাংবাদিক মাছুম চৌধুরী ও অপর বাড়ির বাসিন্দা ইউপি সদস্য আছাব মিয়া বলেন, আমরা সব অপারেটরের সিম ব্যবহার করছি কিন্তু কোনো অপারেটরের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। ইন্টারনেট ভিত্তিক এ্যাপসগুলোতে ইনকামিং-আউটগোয়িং কলে বারবার লাইন কেটে যায়। এমন ভোগান্তি না সওয়া যায়, না বলা যায়।
একই ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বরুপ দে শংকু বলেন, তাদের পুরো গ্রাম ও এলাকাজুড়ে নেটওয়ার্ক ভোগান্তি বিদ্যমান। তার বাড়িতে স্বাভাবিক নেটওয়ার্ক নেই! মোবাইলে ইনকামিং-আউটগোয়িং কল করা সম্ভব হয় না। নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকা ব্যয় করে বাড়িতে তিনি ওয়াইফাই সংযোগ নিয়েছেন।
বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রিফাতপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক শামীম আহমদ বলেন, ঘরের ভিতরে নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে কোনো সংযোগ মিলে না, কল আসলে মোবাইল ফোন বন্ধ দেখায়। এবিষয়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর গ্রাহক সেবার হটলাইন নাম্বারে একাধিকবার কল করে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু নেটওয়ার্কের গতি বৃদ্ধির কথা বললেও এ ভোগান্তি দূর হচ্ছে না। বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে জরুরী তথ্য আদান-প্রদান করতেও পারছি না। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে একই গ্রামের বৃদ্ধার প্রবাসী ছেলে তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলতে না পারার কষ্টতো আছেই, মোবাইল অপারেটরগুলো কী সেদিকে নজর দেবে? ওই বৃদ্ধার পক্ষে মোবাইল নিয়ে নেটওয়ার্ক খোঁজে কথা বলাও সম্ভব নয়। উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সারসপুর গ্রামের বাসিন্দা ছদরুল হাসান নবীন বলেন, নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে বারবার সিম পরিবর্তন করছি এরপরও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কথা বলতে পারি না। উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের গৃহবধূ শাহানারা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকেন। কাজের ফাঁকে ফোন করেন, কিন্তু তার পক্ষে রাতে মোবাইল নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে কথা বলা সম্ভব হয় না। কল আসলে লাইন কেটে যায় এজন্য বাড়িতে ফোন করতে অনিহা দেখান তার প্রবাসী স্বামী। সর্বাধিক গ্রাহক দাবিদার গ্রামীণ ফোনসহ মোবাইল অপারেটরগুলোর স্বাভাবিক নেটওর্য়াক বালাগঞ্জ এলাকায় নেই। মোবাইল অপারেটরগুলো ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করার কথা বললেও স্বাভাবিক নেটওয়ার্কের সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের মোবাইল গ্রাহকরা।
মোবাইল কোম্পানীগুলো উন্নত সেবা দেয়ার নামে রীতিমত প্রতারণা করছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। মোবাইল কেম্পানীগুলোকে রক্ত চুষা জোক আখ্যায়িত করে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরো উপজেলায় শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কাভারেজ নেই। এতে তারা চরম দুর্ভোগে আছেন তারা। ফোনে কথার বলার সময় ঘর থেকে বের হয়ে নেটওয়ার্কের কভারেজ নিশ্চিত করতে হয়। রাতের বেলায় ঘরের বাহিরে যাওয়াও সম্ভব হয় না। ফোনে ভাল করে কথা বলতে পারেন না তাদের পক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করার তো কল্পনা মাত্র। স্বাচ্ছন্ধে কথা বলতে না পারায় গ্রাহকদের আর্থিকভাবে লুকসান হচ্ছে। বিশেষ করে এই এলাকায় তুলনামুলকভাবে গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক সংখ্যাই বেশী। দুর্বল নেটের কারণে এই অপারেটরের গ্রাহকরা অতিমত্রায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। আর দুর্বল নেটওর্য়াকের কারণে খুবই বিব্রত প্রবাসীরা। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে কল দিলে কথা বুঝতে না পারায় প্রবাসীদের এমন চাপা কষ্ট দূরীকরণে মোবাইল অপারেটরগুলো নেটওয়ার্কের গতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ কী নেবে?
এদিকে বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোনে টিউটেরিয়াল ক্লাস ফলো করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত কোনো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারছে না বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোর অফিসিয়াল নাম্বারগুলোতে (৪জুন বেলা ২টার দিকে) একাধিকবার কল দিলেও কল রিসিভ হয়নি।