বালুচরের ভিতরে রাস্তা কেটে সিটি কর্পোরেশনে পানির অবৈধ সংযোগ দেখার কেউ নেই! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বালুচরের ভিতরে রাস্তা কেটে সিটি কর্পোরেশনে পানির অবৈধ সংযোগ দেখার কেউ নেই!

প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৬

বালুচরের ভিতরে রাস্তা কেটে সিটি কর্পোরেশনে পানির অবৈধ সংযোগ দেখার কেউ নেই!

DSC_0721 copyসিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পানির জন্য সব সময় হাহাকার। অথচ সিলেট সিটির বাইরের এলাকায় অবৈধভাবে নেয়া হচ্ছে সিটির সাপ্লাইয়ের পানির লাইন। পাশাপাশি কেটে ফেলা হচ্ছে উপজেলা পরিষদের রাস্তা। সৃষ্টি করা হচ্ছে জনদূর্ভোগ। বুধবার সকালে শহরতলী টুলটিকর ইউনিয়নের বালুচর পয়েন্ট সংলগ্ন নতুনবাজার এলাকায় রাস্তাকাটা ও পানির লাইনের কাজ শুরু করা হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট শহরতলী বালুচর পয়েন্টস্থ নতুনবাজার এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মনির মিয়ার বাসায় ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তিক ভবনে এর আগেও অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনের সাপ্লাইয়ের পানির লাইন নেয়া হয়। এখন সিটি থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরবর্তী বালুচর নতুনবাজারস্থ ফোকাস আবাসিক এলাকার রাহেনা ভিলায় রাস্তা খুড়ে নেয়া হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের অবৈধ পানির লাইন। টাকার বিনিময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই পানিচুরির এ লাইন বসানো হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগে পাওয়া গেছে। ফোকাস আবাসিক এলাকার রাহেনা ভিলায় ৩ তলা বিশিষ্ট বাসাটির মালিক টুলটিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি তরমুজ আলী।
unnamedএ ব্যাপারে রাস্তা কেটে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত গেদু মিয়াকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ইউপি মেম্বার কাছা মিয়ার নির্দেশে তিনি এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। পানির লাইন ও রাস্তা কাটার অনুমতির ব্যাপারে তার কিছুই জানা নেই।
এব্যাপারে টুলটিকর ইউপি মেম্বার কাচা মিয়ার সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পানির লাইন পূর্বের চেয়ারম্যান আব্দুল মুছব্বিরের আমল থেকেই। লাইন উপরে থাকায় পানি উপচে পড়ে রাস্তা ভেসে যায়, তাই আমরা রাস্তার তিন ফুট গভীরে দিয়ে পানির লাইন নিতে সংশ্লিষ্টদের বলেছি। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে পানির লাইন নেয়ার অথবা উপজেলা পরিষদ থেকে রাস্তাকাটার অনুমতি আছে কি না তা তার জানা নেই। তিনি আরো জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল সংশ্লিষ্ট বাসাগুলোর মালিকদের কাছ থেকে কাজের ঠিকাদারী নিয়ে গেদু মিয়াদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন।
এই বিষয়ে জানতে ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগকরা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার টুলটিকর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পানির লাইন ও রাস্তা কাটা সম্পর্কে তিনি মোটেই অবগত নন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক জন জানান, সড়ক ও জনপদের অনুমতি ছাড়া রাস্তা কেটে জোরপূর্বক ভাবে কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি কাজ করছেন। সরকারী কোন দপ্তর এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, কাজ দেখে না দেখার প্রলবনে চলা ফেরা করছেন। স্থায়ীদের দাবী টুলটিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি তরমুজ আলী টাকার বিনিময়ে জোপূর্বক ভাবে জনস্বার্থের কথা চিন্তা না করে নিজের লাভের জন্য অবৈধ ভাকে কাজটি করাচ্ছেন। অচিরে যদি সমস্যটি সবার সাথে আলাপ আলোচনা মধ্যে অবৈধ সংযোগের কাজ বন্ধ না করা হয় পরবর্তীতে স্থানীয়রা বিকল্প চিন্তা করবেন বলে জানান।