বাসা-দোকান ভাড়া নিয়ে বিপাকে সিলেটবাসী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বাসা-দোকান ভাড়া নিয়ে বিপাকে সিলেটবাসী

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

বাসা-দোকান ভাড়া নিয়ে বিপাকে সিলেটবাসী
সুয়েবুর রহমান
দেশব্যাপী বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলছে।সিলেটেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়।প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাড়ছে সচেতনতা। তাই অনেকেই কর্মহীন হয়ে উঠেছেন।
দীর্ঘদিন লক ডাউনের পর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে।কিন্তু প্রার্দুভাব করোনার সংক্রামণ বৃদ্ধির কারণে এসব প্রতিষ্ঠান এখন ক্রেতাশূন্য।
এমতাবস্থায় সিলেটে বাসা ভাড়া – দোকান ভাড়া – ও সমিতি ভিক্তিক কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছে ভুক্তভোগীরা।
বাসার মালিক চাপ দিচ্ছেন বাসা ভাড়া পরিশোধের জন্য। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক চাপ দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের ভাড়ার জন্য।এবং যারা সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদেরও চাপ দেওয়া হচ্ছে ঋণ পরিশোধের জন্য।
নানু মিয়া নামের এক ব্যাক্তি বলেন,দীর্ঘ নয় বছর থেকে তিনি সিলেটের কুমারপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। এক ছেলে ও মেয়ের উপর নির্ভরশীল তার সংসার।লকডাউনের শুরু থেকে ছেলেটি চাকুরী নেই।একমাত্র মেয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি। নগরেরে প্রাইভেট একটি হাসপাতালে চাকুরী ছিল মেয়ের। গত দু দিন পূর্বে মেয়ের চাকুরীও চলে গেছে।এই অবস্থায় বাসার মালিক প্রতিদিনই চাপ দিচ্ছেন ভাড়ার জন্য।এই পরিস্থিতিতে তিনি কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পাড়ছেন না।
শাহী ঈদগাহ এলাকায় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রার্দুভাব করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘথেকে কর্মহীন অবস্থান জীবন যাপন কারছি। ব্যাংকে রাখা অবশিষ্ট টাকা তুলেও বাসা ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করেছি গত মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে। কারণ এখন আমার কাছে পরিবারের খরচের জন্য একটা টাকা নেই। এমতাবস্থায় বাসার মালিক পাঁচ মাসের গ্যাস বিল পরিশোধের জন্য ভাড়া চাইছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কি করবো কি করা উচিত কিছুই বুঝতে পারছি না।
১৮ নং ওয়ার্ডের রায়নগর বসুন্ধরা এলাকার এক ব্যাক্তি বলেন, ১ মাসের বকেয়া বাসা ভাড়া রয়েছে। প্রতিদিনই মালিক ঐ ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। এমনকি পরিশোধ না করতে পাড়লে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছি।
আরেক ব্যক্তি বলেন, বাসার মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী। লক ডাউনে পর থেকে মাত্র এক মাসের ভাড়া বকেয়া রয়েছে।এই এক মাসের বকেয়া ভাড়ার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফোনে কল দিয়ে মালিক অন্য বাসা দেখার জন্য বলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একব্যক্তি বলেন, চার বছর ধরে নগরের একটি মাহল্লার ভিতরে তিনি দর্জির ব্যবসা পরিচালনা করছেন।এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে তার প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ধরনের আয় নেই তবুও প্রতিষ্ঠানের মালিক ভাড়া চাপ দিচ্ছেন প্রতিনিয়তই।তিনি বলেন, সিলেটে করোনা প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এই অবস্থায় আমাদের মত মানুষের খেয়ে বাচা যেন এক যুদ্ধে পরিনত হয়েছে। আয় রোজকার কিছুই নেই বাসা ভাড়া ও দোকান ভাড়া পরিশোধ যেন আমাদের” মরার উপর খাঁড়ার গাঁ” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন এমন অনেক ভুক্তভোগীরা আমাদের এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করেছেন , যাদের অনেকে দিনমজুর, চা বিক্রেতা, হোটেল ব্যবসায়ী। আলাপকালে তারা বলেন, দেশের সংকটময় এ পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারকে নিয়ে কিভাবে বেচে আছি তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এই পরিস্থিতিতে নেই কাজকর্ম নেই ব্যবসা বাণিজ্য তবুও বাসা ভাড়া, দোকান ভাড় মাসের দশ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এদিকে আবার সমিতি থেকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য বলা হচ্ছে। সাপ্তাহ ঘুরলেও কিস্তি নেওয়ার জন্য সমতির লোক এসে দরজার হাজির।
আবার অনেকেই বলছেন সমিতির মাঠকর্মীরা বলছে জুলাই মাস থেকে প্রতিটি কিস্তি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হবে। কিন্তু দিন যতই আগাচ্ছে দেশের পরিস্থিতিও ভয়ানক রূপ ধারণ করছে।
সিলেটে এমন পরিস্থিতির শিকার অনেকে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মনে।
পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই – মানবতা আজ কোথায়?

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল