বিএনপির ৪৩২ সদস্যের কার্যকরী কমিটি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিএনপির ৪৩২ সদস্যের কার্যকরী কমিটি

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০১৬

বিএনপির ৪৩২ সদস্যের কার্যকরী কমিটি

BNP-logo_0 copyকাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর এবার বিএনপিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দু-এক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করতে পারেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কোনো কারণে বিলম্ব হলে সর্বোচ্চ আগামী সপ্তাহ নাগাদ সময় লাগতে পারে। ৪৩২ সদস্যের ঢাউস কমিটি করে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করছেন বেগম জিয়া। যারা এ কমিটিতেও ঠাঁই না পাবেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিতে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন কিছু নাম আলোচনায় আসছে, যা নিয়ে বিস্মিত বিএনপির নেতা-কর্মীরাও। জানা যায়, খালেদা জিয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি তালিকা করেছেন।

সর্বশেষ গত সোমবার এক বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে তারেক রহমান একটি তালিকা পাঠিয়েছেন। তা চেয়ারপারসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারেক রহমানের পাঠানো তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করেই এবার কমিটি দিচ্ছেন বিএনপি-প্রধান। এর আগে ঘোষিত ৪২ সদস্যের আংশিক কমিটি নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন অযোগ্য ব্যক্তি ঠাঁই পেয়েছেন বলে দলের ভিতর থেকেই প্রশ্ন ওঠে। জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তারেক রহমান ও সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি দল সমর্থিত বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন বেগম জিয়া। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। চেয়ারপারসন এ নিয়ে কাজ করছেন। কমিটি এখন অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে। কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দল আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

জানা যায়, কয়েক দিন ধরে কমিটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বেগম জিয়া। পূর্ণাঙ্গ কমিটিও এখন তার হাতে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এবার দলের মহাসচিব কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। আবার বিএনপি চেয়ারপারসন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। কমিটি নিয়ে গত দুই দিন সিনিয়র দুই নেতার সঙ্গে বেগম জিয়া দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। কমিটির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই জোটের বাইরে সরকারবিরোধী কয়েকটি দলের সঙ্গে চা-চক্রে বসবেন বেগম জিয়া। এ নিয়ে দলের পক্ষ থেকে এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

জানা যায়, কয়েক দিন ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জেএসডি, বাসদসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেন। জামায়াতকে বাইরে রেখেই বিএনপি আলোচনায় যাওয়ার সবুজ সংকেত দেওয়ায় আলোচনায় রাজি হয়েছে দলগুলো। তবে দুটি বাম দল জানিয়েছে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে চান না। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে চা-চক্রে বসছেন বেগম খালেদা জিয়া।

জানা যায়, কমিটি করতে গিয়ে খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষেপণ করেছেন স্থায়ী কমিটি নিয়ে। ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটি বেড়ে এখন ২১ বা ২৩ সদস্যের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অসুস্থতার কারণে সারোয়ারী রহমান কমিটিতে না থাকতে চাইলে সে ক্ষেত্রে সেলিমা রহমানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

২১ সদস্যের কমিটি হলে মির্জা ফখরুল, আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমেদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্রমতে, এক নেতার এক পদের বিধান কার্যকরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বেগম জিয়া। সে ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও হতে পারে। বিশেষ বিবেচনায় গুটিকয় নেতা একাধিক পদেও থেকে যেতে পারেন। যদিও মাঠের সব নেতা-কর্মী চান, এক নেতার এক পদ। কেউ একাধিক পদ পেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। জানা যায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক পর্যায়ের বড় একটি অংশই যুক্ত হতে পারেন। মো. শাহজাহানকে প্রথম দিকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হলেও সাংগঠনিক বিষয়টি দেখভালের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

একইভাবে ড. আসাদুজ্জামান রিপনকেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুক্ত করা হলেও বিশেষ কোনো দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা আছে দলটিতে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে যে পদেই রাখা হোক না কেন, তাকে যুগ্ম মহাসচিব পদমর্যাদা দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। বিএনপির দফতর শাখায় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পাশাপাশি এ বি এম মোশাররফ, মুনির হোসেন ও শামীমুর রহমান শামীমের নাম আলোচনায় আছে। ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আজিজুল বারী হেলালের নাম আলোচনার শীর্ষে। সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ ও আবদুল মতিনের নাম আলোচনায়।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি পদে সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক পদে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের নাম সম্ভাবনার তালিকায় আছে। সভাপতি পদে অবশ্য যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদও আলোচনায়। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে মীর সরাফত আলী সপুর পাশাপাশি আলোচনায় আছে শফিউল বারী বাবুর নামও। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েলের নামও আলোচনায়। বিএনপি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় দফতর বিভাগে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। সহ-দফতরে দেখা যাবে নতুন মুখ।

দু-এক জন থেকেও যেতে পারেন। তবে যাদের নাম আলোচনায় আছে, তাদের দায়িত্বে না দিয়ে বিস্মিত হওয়ার মতো কয়েকজন দায়িত্ব পেতে পারেন। রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক পদে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়াও ঘোষিত কমিটি থেকে কিছু নেতার দায়িত্ব বদল হতে পারে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, ‘বিএনপির কমিটিতে সব সময়ই ত্যাগীদের একটি অংশ অবহেলিত হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এবারও হবে। এমন কিছু অযোগ্য ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। এ নিয়ে কিছু বলারও নেই। তার পরও দলের স্বার্থেই আমরা কমিটি চাই।’