বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান – নতুন বছরেই দেশে ফিরবে গণতন্ত্র – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান – নতুন বছরেই দেশে ফিরবে গণতন্ত্র

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৬

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান – নতুন বছরেই দেশে ফিরবে গণতন্ত্র
1460642466বিবেদ নয় ঐক্য গড়ে জাতিকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপির অন্যতম অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। এতে সভাপতিত্ব করেন জাসাসের সভাপতি এম এ মালেক। এবং পরিচালনা করেন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান।

খালেদা জিয়া বলেন, আসুন নববর্ষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হই; শপদ নেই। বিবেদ নয় ঐক্য গড়ে জাতিকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাই। শহীদরা যেমন রক্ত দিয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তেমনি সকলে মিলে  বাংলাদেশকে বহি:বিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের দেশ উপহার দিব। আসুন গণতন্ত্রের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আসুন হাতে হাত, কাধে কাধ মিলিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমরা আশা করি, নতুন বছরে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পাব। উন্নয়ন হবে, শান্তি আসবে, হত্যা-গুম-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্ত হবে। দেশে প্রতিটি মানুষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, নতুন বছর বাংলাদেশের জন্য সুদিন বয়ে আনবে। নতুন বছরে গণতন্ত্র ফিরে পাব। দেশে উন্নয়ন হবে। মানুষের মুক্তি হবে। কর্মসংস্থান হবে। হত্যা গুম বন্ধ হবে। এজন্য বেশি প্রয়োজন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমরা অনেক দু:খ যন্ত্রনা, বেদনা ভোগ করছি। সেই সেই দু:খ যন্ত্রনা ভুলে গিয়ে হাসি আনন্দ ও কল্যানের জন্য  আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। শুভ দিন আমাদের সামনে আসবে।
এ সময়ে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সর্বস্তরের লোক ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাশীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, “ভাষা শহীদরা ভাষার জন্য যেভাবে রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, সারা বিশ্বে আজ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

“ঠিক এমনিভাবে এই নববর্ষে বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে শান্তি উন্নয়ন কল্যাণের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব ইনশাল্লাহ।”

এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাসাস শিল্পীদের গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন সোয়া ৪টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ক্রিম কালারের লাল পাড়ের সুতির শাড়ি পরা খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে সেখানে সমবেত হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হাত নেড়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জবাব দেন।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ভিড় ডিঙিয়ে নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। নিরাপত্তাকর্মীদের তার গাড়িবহর মঞ্চের কাছে নিতে বেগ পেতে হয়।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে জাসাস শিল্পীরা বর্ষবরণের নানা গান পরিবেশন করেন। শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর ‘এসো হে বৈশাখ’ গান শোনান তারা।

জাসাসের বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠানে বেবী নাজনীনের পাশাপাশি হাসান চৌধুরী, পিয়াল হাসান, মনির খান, পলি শারমীন ‍শুভ্র আসাদ, শাহজদি কোহিনুর পাঁপড়ি, মুন, রেখাসহ সংগঠনের শিল্পীরা ভাটিয়ালী, দেশাত্মকবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব  ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল