বিএনপি নেতা এমদাদকে মারধর যারা পেঠালেন তারাই দেখতে গেলেন !

প্রকাশিত: ২:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২২

বিএনপি নেতা এমদাদকে মারধর যারা পেঠালেন তারাই দেখতে গেলেন !

বিএনপি নেতা এমদাদকে মারধর
যারা পেঠালেন তারাই দেখতে গেলেন !

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজ দলের নেতা কর্মীর হাতে লাঞ্ছিত সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা এমদাদ l দেখতে গেলেন মুক্তাদির সহ অনেকে l

এ যেনো অনেকটা ‘গরু মেরে জু’তো দান’ এর মতো l

সিলেট মহানগর বিএনপির ইফতার আয়োজনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অতিথি করা নিয়ে বিরোধীতা করায় একপক্ষের হাতে নির্যাতিত হন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
প্রতিপক্ষ দলীয় নগরের আম্বরখানা ও চৌখিদেখি এলাকা থেকে আসা একদল নেতাকর্মী সভাকক্ষে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। এমনকি তাকে টেনে হিচঁড়ে বাইরে ঘরের এনে মারধর করেন। মারধরে এমদাদ চৌধুরী আহত হয়েছেন। এরপর ঘটে আরো নাটকীয় কাণ্ড। যারা তার উপর হামলা করেছেন, তারাই সহানুভুতির বুলি আওড়ায়ে দেখতে গেলেন এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে।দলীয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার পর এমদাদ চৌধুরীকে দেখতে যান প্রতিপক্ষ খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও তার অনুসারীরা।কিন্তু চরম বিক্ষোব্ধ থাকলেও তাদের কিছু বলতে পারেননি এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
দলীয় সূত্র জানায়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুড বুকে রয়েছেন। যে কারণে হামলার ঘটনার পরও তার উপর শাস্তির খড়গ পড়েনি। তার স্থলে অন্য কেউ হলে বহিস্কারের ফরমান জারি হতো। যে কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করার বিরোধীতাকারীদের কোনো ধরণের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় এই নেতার পক্ষ নিয়ে মার খেয়েও নীরবে সহ্য করতে হলো এমদাদকে। বরং যারা হাত তুলেছেন, লাঞ্ছিত করিয়েছেন, তারাই আবার গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, ফটশ্যূট করেছেন। এটা নেহায়েত ঠাট্টা করার মতো, মনে করছেন দলের এক অংশের নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির ইফতার আয়োজন নিয়ে গত বুধবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে নগরের ভাতালিয়ায় দলের সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।ওই বৈঠকে অতিথি করা নিয়ে প্রথমে বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়।
দলীয় সূত্র আরো জানায়, লন্ডন থেকে নির্দেশনা আসে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করতে। এমদাদ হোসেন চৌধুরী এই প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ইকবাল মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথি হলে প্রটোকলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অবস্থান নীচে নেমে যায়। এ কারণে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কামাল হাসান জুয়েল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালসহ তাদের বলয়ের নেতাকর্মীরা।তারা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অতিথি করতে মরিয়ে হয়ে ওঠেন।এ নিয়ে ওইদিন রাত ১২টার দিকে আম্বরখানা চৌকিদেখির একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সভাকক্ষে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ডিম নিক্ষেপ করেন। তার উপর ছুঁড়া ডিম অন্যদের উপরও পড়ে কাপড় নষ্ট হয়।এরপর হামলাকারীরা এমদাদ চৌধুরীকে নেতৃবৃন্দের সামনে দিয়ে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে মারধর করেন।এ ঘটনায় উপস্থিত অনেক নেতারা বেরিয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মারধরের সময় ভয়ে প্রতিবাদ করতে যাননি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিএনপির ইফতার মাহফিল শেষে অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইফতার আয়োজনে গরুর মাংস থাকায় হিন্দু ধর্মীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ ঝাড়েন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। আর ইফতার আয়োজন সম্পন্নের পর শুক্রবার আহত এমদাদু হোসেন চৌধুরীকে দেখতে যান হামলাকারীদের মদদদাতারা। এ নিয়ে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। নেতাকর্মীদের অনেকে বলেন, ‘যারা পেঠালেন, তারাই আবার দেখতে গেলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল