বিনা তদন্তে শিক্ষিকার অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়- এফ এইচ ফারহান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিনা তদন্তে শিক্ষিকার অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়- এফ এইচ ফারহান

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৭

বিনা তদন্তে শিক্ষিকার অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়- এফ এইচ ফারহান
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান সাহেব খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন, শিক্ষিকা দীপ্তি রানী বিশ্বাস টেবিলের ওপর মাথা রেখে ঘুমে। ছবি কে তুললো?
প্রথমত, চেয়ারম্যান সাহেব কি কৃতিত্ব লাভের অাশায় স্কুল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন, তিনি কি জেনেশুনেই মানুষ গড়ার কারিগরদের একজনকে অপদস্থ করলেন?
দ্বিতীয়ত, শিক্ষিকার মাথা কেন টেবিলের ওপর ছিলো? ওনি কি রাতে ঘুমাননি বা কেন ঘুমাননি, স্কুলের কাজের চাপে নাকি অন্য কিছু? ভদ্রমহিলা কি অসুস্থ ছিলেন বা শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত স্কুলে অাসা যাওয়া করতেন? ঘটনাটি পরীক্ষার কক্ষে সংঘটিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিভাবে একজন অসুস্থ শিক্ষিকাকে এককভাবে একটি পরীক্ষা কক্ষের দায়িত্ব দেয়?
ভদ্রমহিলার সহকর্মীদের প্রশ্ন করলেই তো ব্যাপারটা অনেকখানি স্পষ্ট হয়ে যায়। এমনও তো হতে পারে, ভদ্রমহিলার মাথায় প্রচন্ড অস্বস্তি অনুভূত হওয়ার কারণে মাথা টেবিলের ওপর রেখেছিলেন। গ্রামীণ স্কুলটিতে চিৎকার চেঁচামেচি থাকার কারণে তিনি চেয়ারম্যান সাহেবের উপস্থিতি টের পাননি। এসবকিছু বিবেচনা না করে চেয়ারম্যান সাহেব ওনার সহকর্মীর সাহায্যে প্রথমে ছবি তুললেন এবং পরে তা বিনা বিবেচনায় স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলেন। দলবল নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা কিংবা অপ্রস্তুত অবস্থায় একজন নারীর ছবি তুলে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া কি অপরাধ নয়? একজন শিক্ষক তার দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ছবি কেন তোলা হবে? এই কাজটি কতটা শোভনীয়? অনিয়ম কি অামাদের দেশে কম হয়? চেয়ারম্যান সাহেব শিক্ষার্থীদের সামনে শুধুমাত্র একজন শিক্ষিকাকেই অপদস্থ করেননি বরং তিনি পুরো বিশ্বের সামনে একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে তথা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।
অামি বলছি না, ওই শিক্ষিকা ধোয়া তুলসী পাতা। ভুল ওনারও থাকতে পারে, অসুস্থ থাকলে ওনার স্কুল থেকে ছুটি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু নারীমন, ভুলতো হতেই পারে অথবা এমনও হতে পারে যে, শিক্ষক স্বল্পতা বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারণে ওনাকে অসুস্থ শরীর নিয়েও স্কুলে অাসতে হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষকরাও ভদ্রমহিলাকে দায়িত্বসচেতন হিসেবে অাখ্যায়িত করেছেন। যাহোক, সেটি তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। শিক্ষিকা কর্তৃক সত্যিই যদি কোনো বড় ধরণের ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ছিল, অারও শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছিলেন কিংবা প্রশাসনিকভাবেও সমস্যাটির সমাধান করা যেতো।
ভুল খুঁজতে গেলে তো পুরো ইডুকেশন সিস্টেমটিই ত্রুটিপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিজের ডাস্টবিন ‘র অাবর্জনা নিজেই পরিষ্কার করতে হবে। ঢোল পিটিয়ে বিশ্ববাসীকে অামন্ত্রণ জানালেও বিনা স্বার্থে কেউ অাপনার ঘর পরিষ্কার করতে অাসবে না। সবমিলিয়ে শিক্ষিকার ভুল নাকি স্কুল কর্তৃপক্ষের ত্রুটি সেটি পরের বিষয়, কিন্তু বিনা তদন্তে একজন দায়িত্বশীল উপজেলা চেয়ারম্যানের অস্বাভাবিক অাচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রসমাজের একজন হয়ে অামি বিষয়টি মেনে নিতে পারলাম না।
লেখক : মো. ফয়েজুল হাসান ফারহান
ছাত্র সংগঠক