বিপাশার অনেক রং – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিপাশার অনেক রং

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

বিনোদন ডেস্কঃঃ  ‘অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবসময় ভালো লাগে। বিশেষ করে পথশিশু, নির্যাতিত শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজের আগ্রহ বরাবরই বেশি। আমি যখন থেকে মা, আমার ভেতরে আরেকটি শিশুকে ধারণ করেছি, তখন থেকে শিশুদের প্রতি আমার যে মমতা তৈরি হয়েছে, তা কেবল আমার সন্তানদের জন্য নয়, পৃথিবীর সব শিশুদের জন্যই।’

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে এভাবে বললেন অভিনেত্রী, চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের হয়ে শিশুদের জন্য কাজ করছেন। এ ছাড়া তিনি ‘ভ্যাসলিন হিলিং প্রজেক্ট’-এর আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে চলছেন দেশের নানা প্রান্তে।

বিপাশা হায়াতের অনেক পরিচয়। অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা, চিত্রকলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে চিত্রশিল্পী হিসেবেও নাম করেছেন। সব পরিচয়ে অনবদ্য। বলা চলে একের মধ্যে অনেক। সবকিছুকে সাময়িক ছুটি দিয়ে ছবি আঁকা নিয়ে ধ্যানমগ্ন তিনি। যখন যে কাজটি তিনি করেছেন, তাতেই উজাড় করে দিয়েছেন সম্পূর্ণ ধ্যান-জ্ঞান। নিজের ইচ্ছা থেকেই এখন পূর্ণ মনোযোগ স্থাপন করেছেন চিত্রকলায়। তার ক্যানভাসে ফুটে ওঠে আলো-আঁধারের চেনা-অচেনা হাজারো রহস্য।

এ বছরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ট্রান্সফর্ম গ্যালারিতে ‘সাব কনসাস’ শিরোনামে তার একক চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার ছবির সবাই বেশ প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘমেয়াদি এ প্রদর্শনী এখনও চলছে। প্রদর্শনীর টানেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন বিপাশা হায়াত। সেখানে নতুন একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও করছেন। দেশ ত্যাগের আগে তিনি বলেন, ‘সাব কনসাস’ প্রদর্শনীটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদর্শনী। বছরব্যাপী প্রদর্শনীটিতে বেশ সাড়া পেয়েছি। বিদেশের মাটিতে শিল্পমনা টানেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি।

ছোটবেলা থেকেই বিপাশা হায়াতের আগ্রহ ছিল সংস্কৃতি জগতের প্রতি। ১৯৮৩ সালে বিটিভিতে মামুনুর রশীদ রচিত ‘খোলা দুয়ার’ নাটকের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি।

মঞ্চে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান হুমায়ূন আহমেদের ‘অয়োময়’ ধারাবাহিকে ‘লবঙ্গ’ চরিত্রে। আশির দশকে অভিনয় শুরু করলেও নব্বই দশকে টিভি নাটকে তার উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে একসময় নিজস্ব প্রযোজনায় নাটক নির্মাণ হতো। বাইরে থেকে নাটক বানিয়ে এনে প্রচার করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু সে অচলায়তন ভেঙে ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ নাটকটি দিয়ে শুরু হয় প্যাকেজ নাটকের যাত্রা। ১৯৯৪ সালের ৮ ডিসেম্বর এটি বিটিভিতে প্রচার হয়। বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ নাটকের অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত এ নাটকে বিপাশার সঙ্গে অভিনয় করেন নোবেল, আবুল হায়াত, কেএস ফিরোজসহ অনেকেই। প্যাকেজ নাটকের ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিপাশা বলেন, এই তো সেদিনের কথা। দেখতে দেখতে কেটে গেল ২৫ বছর। একটি নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিটিভি শুরু করেছিল প্যাকেজ নাটক। এর প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, সেদিক নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে একটা প্যাকেজ নাটকের প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে ইতিহাসে একটা জায়গা হলো [হাসি]। ছবি আঁকাআঁকির ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে অভিনয় আঙিনা থেকে দূরে রয়েছেন ‘আগুনের পরশমণি’ কন্যা। মিডিয়ার অন্যান্য কাজের দরুন ছবি আঁকায় ছেদ পড়ূক, তা কোনোভাবেই চান না তিনি। অভিনয়ে নিয়মিত হবে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিনয় তো করতে চাই। তবে তা আঁকাআঁকি ঠিক রেখে। ভালো স্ট্ক্রিপ্ট পেলে অবশ্যই অভিনয় করব। ভালো স্ট্ক্রিপ্ট পাই না বলে মাঝে মাঝে হতাশ হতে হয়। এখনকার বেশিরভাগ নির্মাতা কেন, কী উদ্দেশ্যে নাটক নির্মাণ করছেন তা জানেন না। সংলাপগুলো অন্তঃসারশূন্য, দর্শনশূন্য। এমন হযবরল অবস্থা দেখে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ মিইয়ে গেছে।

কাজল/১৯/১২/২০১৯