26689এবার জঙ্গি সংগঠন আইএসের পরিচয়ে বিশ্বনাথের এক পুরোহিত পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসআই কল্লোল গোস্বামী বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করেছেন, (জিডি নং ৯০৫৪)। এর আগে তাখছু মোল্লা নামে প্রেরিত ওই চিঠি গত শনিবার রাতে পুরোহিত রণধীর ভট্টাচার্য মঞ্জুর হাতে পৌঁছে। চিঠি প্রাপ্তির পরদিন রোববার বিশ্বনাথ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন তারা। তবে প্রথমে পুলিশ এ বিষয়টি আমলে না নিলেও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়। রণধীর ভট্টাচার্য তার অপর আরও দুই ভাই রনবীর ভট্টাচার্য মঞ্জু, রনঞ্জীত ভট্টাচার্য সঞ্জুসহ তিন ভাইয়ের নামে দেওয়া চিঠিতে ১৫দিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরা সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী জানাইয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত রতিশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্যর ছেলে।
পুরোহিত রনধীর ও তার ছোটভাই রঞ্জিত ভট্টাচার্য এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির কালী নন্দন চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তারা চিঠি প্রাপ্তির বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন। তারা বলেন, আইএস পরিচয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগ তাদের কাছে শনিবার একটি চিঠি পৌঁছে। চিঠি পাওয়ার পরদিন আতঙ্কিত হয়ে থানায় পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে তাদের জানায়।
কালী নন্দন চৌধুরী বলেন, চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ইসলামের সাথের দল আইএস। পুরোহিত নিধন কমিটি থেকে বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে যে, ৫হাজার সাধু-সন্ন্যাসীরা আগামী ১৫দিনের মধ্যে ভালো-মন্দ খেয়ে প্রস্তুত থাকবেন। চিঠির শেষাংশে আবার নট-গিল্টি ইংরেজিতে একটি শব্দ লিখা রয়েছে। এছাড়া চিঠির খামের উপরে প্রেরকের ঠিকানা তাখছু মোল্লা, বি-বাজার, সিলেট লিখা আছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কথা হলে থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই ও এসআই কল্লোল গোস্বামী ‘আইএস পরিচয়ে পরোহীত পরিবারকে চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি ভোগাস বলে দাবি করেছেন। তদন্তাধীন দাবি করে তারা বলেন, আইএস পরিচয়ে দেওয়া ওই চিঠির ধরণ দেখে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ২য় কিংবা ৩য় শ্রেনীর ছাত্রের হাতের লেখার মতো এ চিঠিটির ছন্দ ভাষাগত এবং বানানের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
জানা গেছে, পুরোহিত রনধীর ভট্টাচার্য পল্লী চিকিৎসক তার ছোটভাই রনবীর ভট্টাচার্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও রঞ্জিত ভট্টাচার্য তিন ভাই। নিজ নিজ কর্মব্যস্ততার মধ্যেও বাড়ির উপাসনালয় ও হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান (পূজার্চনা) পরিচালনা করে থাকেন। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত এবং অত্যন্ত নিরীহ ওই পরিবারকে হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে পুরোহিতের পরিবার। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী স্থানীয় অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জানাইয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামে গিয়ে আতঙ্কের বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া গেল। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা ভয়ে মূখ খুলতে রাজি হননি। তাদের ভিতরে যেন এক অজানা আতংক বিরাজ করছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানালেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ রয়েছে। ফলে মনে ভয় থাকলেও তারা মুখ খুলতে চাচ্ছেননা।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.