“বিশ্ব মানবাধিকার দিবস: একটি রোবট এবং রাস্তার এক ভাই ও বোন”- মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“বিশ্ব মানবাধিকার দিবস: একটি রোবট এবং রাস্তার এক ভাই ও বোন”- মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৭

“বিশ্ব মানবাধিকার দিবস: একটি রোবট এবং রাস্তার এক ভাই ও বোন”- মো.নাঈমুল ইসলাম

হতদরিদ্র, অসহায়, নির্বোধ, বিত্তহীন, বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত এই একটি শ্রেণী আছে যার কথা আমরা ভুলে যাই। তারা সেই সব মানুষজাতি যে মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। সেই একই মাটির তৈরি যে মাটি দিয়ে মহান অল্লাহ তা’য়ালা আমাকে আপনাকে বানিয়েছেন। তারা সেইসব মানুষজাতি যারা একটু হলেও অধিকারের আসায় বসে থাকে। যারা চায় অন্তত তিন বেলা যেনো পেট ভরে খেতে পারি কিন্তু সম্ভব হয় না। যারা চায় তাদের সন্তানকে একটি ভালো এবং উন্নতমানের স্কুলে পড়ালেখা করিয়ে তাদেরকে মানুষ করতে কিন্তু তাদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয় না। তারা চায় এমন একটি আশ্রয় যেনো মাথাটাকেও লুকিয়ে রাখতে পারি কিন্তু সেটাও সম্ভব হয় না। এই শ্রেণির মানুষদেরকে আমি আপনি প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। কখনো রাস্তায় কখনো ব্রিজের নিচে আবার কখনো রাস্তায় রাস্তায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত হাটঁতে হাটঁতে। তাদের জীবনে চাওয়া থেকে পাওয়ার গুরুত্বটা অনেক বেশি। তাদেরকে দেখবেন রোজ সকালে প্রত্যেক বাসায় বাসায় গিয়ে ভিক্ষে চাইতে। জানি এই ভিক্ষে চাওয়াটা আপনার কাছে খারাপ লাগতে পারে কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির স্বীকার হতে হচ্ছে তাদেরকে। তাদেরকে দেখবেন রাস্তায় দামি আলিশান গাড়িতে চড়ে বসা সাহেবের কাছে টাকা চাইতে তাও আবার কাচের মধ্যে হাত রেখে। সেই সাহেবের কাছ থেকেও তাকে বঞ্চিত হতে হয়। সেই সাহেব যখন খেয়াল করেন কাচের মধ্যে কেউ হাত নাড়াচ্ছেন তখন সেই সাহেব ছোটলোক অমানুষের বাচ্চা বলে তাদেরকে অপদস্ত করেন। আমি প্রায়ই দেখতাম একটি ৫ বছরের ছেলে তার ২ বছরের একটি বোনকে নিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকতে। প্রতিদিন তাদের সাথে অমার কথা হতো। অনেক কষ্টে চোখের জল ধরে রাখতাম। সেদিন তার একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলো আমাকে। প্রশ্নটি এরকম ছিল, “ ভাইয়া দেশ কি আমাদেরকে আপন মনে করে?” প্রশ্নের জবাবে তাকে বললাম শোনো ভাই আমার, এই দেশ তোমাদেরকে ঠিকই আপন মনে করে কিন্তু যারা এদেশের মূল চালিকাশক্তি তারা তোমাদেরকে আপন মনে করে না। ঠিক তখনই সে আমাকে আরেকটি প্রশ্ন করলো, “ভাইয়া কারা দেশের এই মূল চালিকাশক্তি?” প্রশ্নের জবাবে তাকে বলতে হলো এই দেশের মূল চালিকাশক্তি হলেন দেশের সম্মানিত মন্ত্রী, এমপি এবং বিভিন্ন প্রসাশনিক মহোদয়গণ। অবশেষে তাকে একটি কথা বললাম জানো ভাইয়া তারা তোমাদেরকে আপন মনে করে না তবুও তুমি আমার কাছে তাদের চাইতেও বড় কেননা তোমার কাছে একটি সৎ এবং মহৎ গুণের অধিকারী একটি মন আছে এবং তারা হলো মানুষ রূপের আড়ালে দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন প্রসাশনিক মহোদয়গণ। বর্তমান সরকার রোবট সোফিয়াকে দেশে আনতে তার জন্য মোট খরচ করেছেন ১২ কোটি টাকা, কিন্তু দেশের গরিবরা আরো গরিব হচ্ছে সেটা তাদের খেয়াল নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে রোবট সোফিয়াকে নয় দেশের মানুষের উন্নয়ণ করতে হবে। আসলে আমাদের যারা মন্ত্রী, এমপিরা আছেন তারা অনেক সুবিধাবাদী। যেখানে তারা দেখবে ফায়দা আছে তারা ঠিক সেখানেই ঢিঁল ছুঁড়বে। দেশ এবং দেশের অসহায় গরিব মানুষদের উন্নয়ণ কিভাবে করতে হয় সেটা আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপিদের জানা নেই, তবে তারা এটা ভালো করে জানেন যে গরিব অসহায়দেরকে কিভাবে আরো গরিব করা যায়। রোবট সোফিয়ার জন্য কয়েক হাজার পরিমাণ কারেন্ট খরচ করা হয়েছে কিন্তু এদেশের অসহায়, গরিব মানুষরা আলোর অভাবে ঠিকমতো পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে না কিভাবে গড়বেন সোনার বাংলা। আজ ১০ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। প্রাসঙ্গিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে গেলে হতদরিদ্র, অসহায়, নির্বোধ, বিত্তহীন, বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত এই একটি শ্রেণী আছে যার কথা বেশি মনে পড়ে। একটি দেশের সভ্যতা বিকাশ এবং রাষ্ট্রদিক উন্নয়ণ তাদেরকে ছাড়া অসম্ভব। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি দেখে মনে হয়েছিল সরকার দেশের জনগণের জন্য কিছু করতে চায় তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে কিন্তু সোফিয়ার নিচে ১২ কোটি টাকা তা দেখে আমার ভুল ভেঙ্গে গেলো এবং মন বলল দেশের জনগণের উন্নয়ণ নয় তারা তাদের লাভের জন্য সর্বসাধারণের মানুষকে কষ্টের মধ্যে রেখে দ্রব্যের দাম বাড়িয়েছিলেন। আজ দারিদ্র বিশ্বে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে মানব অধিকারকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়েছে। দারিদ্র, বঞ্চনা, বর্জন ইত্যাদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়া দাতব্য তহবিলের জন্য কোনো বিষয়ই নয়। দারিদ্র্য মোকাবিলায় দেশটি কতখানি ধনী তা-ও নির্ভরশীল নয়। দারিদ্রকে মোকাবিলার লক্ষ্যে মানব অধিকারকে সমুন্নত রাখতে হবে। বিশ্ব এটিকে সমূলে উৎপাটনের জন্য আরো বৃহৎ সুযোগ পাবে …… দারিদ্র দূরীকরণের জন্য এটি একটি বৃহৎ লক্ষ্য অর্জন।

মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।