বিসর্জনে সমাপ্তি দূর্গোৎসবের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিসর্জনে সমাপ্তি দূর্গোৎসবের

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭

বিসর্জনে সমাপ্তি দূর্গোৎসবের

প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো সার্বজনীন দূর্গোৎসবের। মহাদশমীর পূজা শেষে শনিবার বিকেলে নগরীর চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীতে বিসর্জন করা হয় নগরীর মণ্ডপগুলোর প্রতিমা। বিসর্জন চলে রাত অবদি। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভক্ত আর দর্শনার্থীদের ভিড় জমে চাঁদনীঘাটে।

বিসজর্নের মাধ্যমেই শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচদিন ব্যাপী এ উৎসবের। গত মঙ্গলবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল।

মৌসুমীর বায়ুর প্রভাবে টানা বৃর্ষন সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় এবারের দুর্গাপূজা। সব পূজামণ্ডপে ছিল ভক্ত-অনুরাগী আর পূজারিদের আনন্দোচ্ছল সমাগম। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন নিয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মহাষষ্ঠীতে বোধনের পর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমীর কুমারীপূজা, মহানবমী পেরিয়ে মহাদশমীতে শেষ হলো দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার সকালে দিকে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দশমীবিহিত পূজা করা হয়। এরপর ভক্তরা রঙিন মুখে দেবীকে বিদায় দিতে সিঁদুর খেলায় মাতেন।

দেবি দুর্গাকে বিদায় দিতে সিলেট নগরীর বেশির ভাগ পূজামণ্ডপের প্রতিমা ট্রাকে করে নেয়া হয় চাঁদনীঘাটে।  সেখানেই নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীর প্রতিমা। দুর্গতিনাশিনী দেবি দুর্গা মর্ত্য থেকে ফিরে  যান পতিগৃহ কৈলাশে।

শাস্ত্র বলছে, সপ্তমী অর্থাৎ দেবীর আগমনের দিন বুধবার এবং ফেরার দিন শনিবার হওয়ায় দুর্গা এবার এসেছেন নৌকায় চড়ে, যাবেন ঘোড়ায়। দুর্গার নৌকায় চড়ে মর্ত্যে আসার অর্থ হলো—’শস্যবৃদ্ধিস্তুথাজলম’। অর্থাৎ শস্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা। আর ঘোড়ায় চেপে দেবীর বিদায়ের মানে হলো—’ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’; মানে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যুর শঙ্কা।

সিলেট নগরী ও জেলায় এবছর ছয়শতাধিক মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।