বিয়ানীবাজারে পাথর নিয়ে বাহাস, উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিয়ানীবাজারে পাথর নিয়ে বাহাস, উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

বিয়ানীবাজারে পাথর নিয়ে বাহাস, উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি
বিয়ানীবাজার উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীপথ ব্যবহার করে পাথর নেয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের ‘বাহাস’ এখন স্থানীয় মানুষের মুখে-মুখে। তাদের দু’জনের মধ্যে সরাসরি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর অনলাইনে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য নিয়েও নানাকথা বলছেন সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে চারখাই ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব কিছু অনুসারীদের সাথে নিয়ে চারখাই এলাকার সুরমা নদীর তীরবর্তী কছকটখাঁ এলাকায় পৌছান। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি অবৈধ উপায়ে পাথর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা আটক করেন। এ খবর পেয়ে একইসময়ে ঘটনাস্থলে যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। তিনি পাথর বোঝাই নৌকা আটকের বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় পল্লব-ইকবাল উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের কানে এ খবর পৌছালে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর একদল পুলিশ নিয়ে ওই এলাকায় পৌছান। তখন ওসি অবণী নৌকা দিয়ে পাথর নিয়ে যাওয়ার বৈধ কাগজপত্র তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পল্লব ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। ওসি অবণী শংকর করের দাবী, পাথর বোঝাই নৌকার সকল কাগজপত্র সঠিক ছিল। তাই যাচাই-বাছাই শেষে নৌকাগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোব্দ হয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা আপলোড করেন। এতে তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, অবৈধ উপায়ে পাথর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে চারখাই এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি প্রশাসনের অনেকের সাথে কথা বললে কোন সদুত্তর পাননি। ভিডিও বার্তায় তিনি প্রচন্ড ক্ষোভ ঝাড়েন।
এদিকে বুধবার পৃথক আরেক ভিডিও বার্তায় চারখাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক সংগঠিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পাথর ব্যবসায়ীরা বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে নদীপথে তা নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাক আহমদ পলাশের সাথে কথা বলেন এবং তাও সবাইকে শুনান। মোস্তাক আহমদ পলাশ বলেন, আমি পাথর উত্তোলন করে জায়গায় বিক্রি করে দেই। তখন ব্যবসায়ীরা তা মজুদ করে রাখেন। যা বর্ষা মৌসুমে নদীপথে বহন করার জন্য রেখে দেয়া হয়। তার দাবী, পাথর উত্তোলনের জন্য তিনি সরকারকে প্রয়োজনীয় ফি’ প্রদান করেছেন।
চারখাইয়ের এ ঘটনার পর থেকে দু’পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। যা নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠেছে ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন। এলাকার অনেকেই জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। পাথর নিয়ে হঠাৎ এই জনপদে এমন অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ জানতে চায় বিয়ানীবাজারবাসী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল