বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড থেকে তেল চুরি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড থেকে তেল চুরি

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৬

বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড থেকে তেল চুরি

5211c82c76b97-images--2-বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার তেল চুরির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্যাংকলরি যোগে সিলেটের পদ্মা-যমুনা ডিপোতে সরবরাহের সময় ওভারলোডিংয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর এক কোটি টাকারও বেশি তেল চুরি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ১শ জন। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্যাস ফিল্ডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিপোর কর্মচারী এবং ট্যাংকলরির মালিক, চালক ও হেলপার। সিলেট ও চট্টগ্রামের কয়েকটি খোলাবাজারে এই তেল বিক্রি করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। ট্যাংকলরিতে ওভারলোডিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তেল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত চক্রের অনুসন্ধানে নিয়োজিত একটি সরকারি সংস্থা সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সমপ্রতি গ্যাসফিল্ড থেকে তেল চুরির অভিযোগ তদন্ত করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। তারা অভিযান চালিয়ে খোলা পাম্পে এসব তেল বিক্রির সত্যতা পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড থেকে রিফাইনারি ফ্রেশ তেল (কনডেনন্সড নয়) দক্ষিণ সুরমার পদ্মা যমুনা তেল ডিপোতে সরবরাহের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ৬০টি ট্যাংকলরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১২টি গাড়ি ট্যাংকলরি হিসেবে তেল পরিবহন করে থাকে বিয়ানীবাজার-সিলেট রুটে। প্রতিটি ট্যাংকলরিতে ৯ হাজার লিটার তেল বহনের নিয়ম থাকলেও অবৈধ ওভারলোডিংয়ের মাধ্যমে ৯ হাজার ১শ’ লিটার থেকে দেড় শ’ এমনকি দুই শ’ লিটার তেল ভর্তি করে আনা হয়। খাতাপত্রে উল্লিখিত ৯ হাজার লিটার তেল ডিপোতে সরবরাহ করে বাকি তেল আত্মসাৎ করা হয় সুকৌশলে। অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্যাসফিল্ড থেকে ট্যাংকলরিতে তেলভর্তি করার পর নিয়মানুযায়ী সিকিউরিটি সিল যেভাবে ক্রস করে বন্ধ করার কথা সেভাবে বন্ধ না করে কৌশলে এমন সহজভাবে বন্ধ করা হয় যাতে পথিমধ্যে যে কোনো স্থানে ট্যাংকলরির সিকিউরিটি সিল খুলে তেল আত্মসাৎ করা যায়। প্রতিদিন এভাবেই পরিশোধিত তেল আত্মসাৎ করে প্রতি বছরে সরকারি তেল চুরি হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকার। সূত্র আরো জানায়, এসব ট্যাংকলরিতে চালক অথবা হেলপার একবার চাকরি পেলে তার জীবনের ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। কোন কোন ট্যাংকলরির চালক অথবা হেলপার এসব গাড়িতে ২২-২৫ বছর ধরে চাকরি করছে। এদের বেতনভাতার সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো মিল নেই। বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ডের ডিজিএম জানান, গ্যাসফিল্ড থেকে ট্যাংকলরি তেল নিয়ে বের হওয়ার পর কালোবাজারে বিক্রয় করলে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। পদ্মা তেল ডিপোর ডিজিএম (অপারেশন) রেজাউল করিম জানান, তিনি এই প্রথম শুনেছেন ট্যাংকলরি থেকে তেল চুরি হচ্ছে। তবে তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একটি গাড়ির চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গাড়ির দৈনিক খরচাদির জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা প্রয়োজন। এই টাকা আমরা তেল বিক্রয় থেকেই খরচ করি। এদিকে বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ডের পাইপলাইন দিয়ে দীঘদিন যাবৎ অনবরত নির্গত হচ্ছে ‘অকটেন’ তৈল। দায়িত্বরতদের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পাচার হচ্ছে নির্গত অকটেনসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও পাইপ। বিগত সময়ে এলাকাবাসী একাধিকবার পাইপ পাচারকালে জড়িতদের ধরে গ্যাসফিল্ডের সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করলেও ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অকটেন তেল পাইপ দিয়ে নির্গত হওয়ায় এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তাদের নলেজে আছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আসলে তাদের কিছু করার নেই বলে জানান তিনি।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল