বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী

প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে ছিনতাইকারী ধরতে অভিযান চালিয়েও কোনো কাজ হয়নি। শতাধিক ছিনতাইকারীর তালিকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে থাকলেও পুলিশকে টপকে যাচ্ছে তারা। প্রতিদিনই নগরীতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অস্বাভাবিকভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অনেক সময় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে পথিমধ্যে অন্য যাত্রীদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনসেট লুটে নিচ্ছে। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করলেও বেশিরভাগই নীরব থাকছেন। তাদের বক্তব্য, থানায় গিয়ে মামলা করে তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না, উল্টো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনই নগরীর কোথাও না কোথাও ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত দুই মাসে সিলেটে অন্তত ৩৫টি’র মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল গত ৩ জানুয়ারি স্কুলছাত্রী মাইশা চৌধুরীকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা। আহত মাইশা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদলের মেয়ে। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা নগরীর জালালাবাদ এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করে। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিকাবীবাজার পুলিশ লাইন থেকে নাইওরপুল যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন নারী পুলিশ সদস্য তুলি রায়। গত সোমবার নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন গৃহিণী ডলি শিকদার। ছেলেকে স্কলার্স হোম স্কুল থেকে নিয়ে আসার পথে স্থানীয় কাহির মিয়ার গলির মুখে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা তার রিকশার গতিরোধ করে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোনসেট ও পার্স। সিলেট নগরীতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত মাজারভক্ত ও পর্যটক আসেন; কিন্তু নগরীতে এসেই অনেককে ছিনতাইকারীদের পাল্লায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট নগরীর ক্বিন ব্রিজ, শাহজালাল ব্রিজ এলাকা, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, তালতলা, সুবিদবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, কাজিরবাজার ব্রিজ, হাউজিং এস্টেট, দাড়িয়াপাড়া সড়ক ও গলির মুখ এবং আম্বরখানা-টিলাগড় এলাকায় মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাই যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থাকলেও তাতে কোনো ফল পাচ্ছে না নগরবাসী। এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত বছর একশ’ চিহ্নিত ছিনতাইকারীর তালিকা নিয়ে অভিযানে নামে সিলেট মহানগর পুলিশ। ওই সময় হাতে গোনা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আবারও এ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাগবাড়ির বাঘ সুমন, চিকনা কামাল, মধুশহীদের পিচ্চি রাহেল, কুচাইর রুহেল, মীরাবাজারের সাজু, এ কে পাপলু, রায়নগরের সোহেল, আনোয়ার, জাহাঙ্গীর প্রমুখ। ছিনতাইকারীদের সংঘবদ্ধ চক্রটি নিত্যনতুন উপায়ে ছিনতাই কাজ চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের ধরতে নানাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখন থেকে নগরীতে চেকপোস্ট বসানো হবে। টহল জোরদার করা হবে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল