ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন রাজিব-আকরামুল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন রাজিব-আকরামুল

প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৬

ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন রাজিব-আকরামুল

jcd-bangladesh৩ অক্টোবর ২০১৬, সোমবার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ অক্টোবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় কমিটি দিয়েও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না পারার মতো ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে রাজিব-আকরামুল কমিটিকে। চূড়ান্ত হয়ে থাকা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার পরপরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হতে পারে এমন আভাস পাওয়া গেছে দলটির হাইকমান্ড সূত্রে।
সূত্র জানায়, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের চেয়ারপারসনকে পরামর্শ দিয়েছেন। অধিকতর তরুণ এবং দলের জন্য নিবেদিতদের গুরুত্ব পদে রাখার জন্যও অন্যান্যদের প্রতি নির্দেশনা এসেছে লন্ডন থেকে। আগামীতে কারা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারেন সে বিষয়ে একটি খসড়াও চেয়েছেন তারেক রহমান।
দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, আন্দোলন- সংগ্রামে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ওপর নাখোশ অনেকেই। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি তিরস্কার করে নতুন নেতা বাছাইয়ের কথা বলেছেন। ঢাকার বাইরে ছাত্রদলের কোন কার্যক্রম না থাকায় এবং গত দুই বছরে একবারের জন্যও সাধারণ সভা করতে না পারায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মাঝে দলের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের কাছ থেকে বর্তমান কমিটিতে থাকা ত্যাগী ও কর্মঠ ছাত্রনেতাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া কমপক্ষে ১ ডজন নেতার বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন তুলে দেয়া হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে।
আগামী কমিটিতে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন এক ডজন নেতার মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করা এ ছাত্রনেতার বর্তমান বয়স ৩৮ ছাড়িয়েছে। বিয়ে নিয়ে লুকোচুরি করা এ ছাত্রনেতার বাড়ি নোয়াখালীতে। আঞ্চলিক প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাদের কারণে বারবার পিছিয়ে পড়লে আগামী কমিটিতে সভাপতি পদে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে দলের মধ্যে।
বর্তমান কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আকরাম উল হাসান পরবর্তী কমিটিতে সভাপতি হতে জোর লবিং শুরু করেছেন। ১৯৯৫ সালে এস এস সি পাস করা এ ছাত্র নেতার বাড়ি নরসিংদীতে। আঞ্চলিকতার কারণে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান কমিটির ব্যর্থতায় দায়ের কারণে হাইকমান্ড নিজেদের মতো করে ভাবছে। কারণ তিনি আন্দোলন সংগ্রামের সময় আত্মগোপনে ছিলেন এবং ভাইভার কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এত আন্দোলন সংগ্রামে তিনি একবারও গ্রেফতার হননি। এনিয়েও দলের মধ্যে আকরাম উল হাসানকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তার বিয়ে নিয়েও একটি গুঞ্জন রয়েছে।
সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আজমল হোসেন পাইলটের বাড়ি নেত্রকোনায় এ ছাত্রনেতা এসএসসি পাস করেছেন ১৯৯৫ সালে। ৩৭ পেরুনো এই ছাত্রনেতা ২ সন্তানের জনক। আন্দোলনের সময় পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তবে বর্তমানে প্রেসক্লাব এবং পার্টি অফিসকেন্দ্রিক তৎপরতা বেড়েছে। তিনি আলোচনায় আছেন সভাপতি পদের জন্য। অপর সহ-সভাপতি নাজমুল হাসানের বয়সও ৩৭। সাবেক কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে তেমন ভূমিকা না রাখলেও দাপ্তরিক কাজে দক্ষতার কারণে তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে দলের হাই কমান্ড থেকে।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাস করা আসাদুজ্জামান আসাদ পরবর্তী কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য বেশ কোমর বেধেই নেমেছেন। ঝিনাইদহ থেকে উঠে আসা এ ছাত্রনেতা সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবেই বেশ আলোচনায় আছেন। মিয়া রাসেলের বাড়ি টাঙ্গাইলে। ৩৬ বছর বয়সী এ নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ঘনিষ্ঠজন বলে ভালো পদের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। আন্দোলনে তেমন ভূমিকা না রাখলেও সাংগঠনিক কাজে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখছেন। মিন্টু বসু ও আলোচানায় রয়েছে।
আলোচনায় থাকা অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা আগামী কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এ ছাত্রনেতার বাড়ি দিনাজপুরে। উত্তরবঙ্গের প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচিত তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।
এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মেহেবুব মাসুম শান্ত এসএসসি পাস করেন ১৯৯৮ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি করার সময় ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ থাকলে পরবর্তীতে তা শুধরে নিয়ে ছাত্রদলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। বায়েজিদ আরেফিনের বাড়ি নরসিংদীতে। সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের ঘনিষ্ঠ লোক। বিবাহিত এ নেতার বর্তমান বয়স ৩৫ বছর। আন্দোলন সংগ্রামে বেশ জোরালো ভূমিকার কারণে দলের হাইকমান্ডের সুনজরে রয়েছেন।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ এবং ঢাকা কলেজের সাবেক সভাপতি কাজী মাসুদও ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন। যদিও কাজী মাসুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।