ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে সিলেটে মিছিল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে সিলেটে মিছিল

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২১

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে সিলেটে মিছিল

রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখা ও সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জনগনের সস্তা,

সহজলভ্য বাহন হিসেবে এর নকশা আধুনিকায়ন এবং ব্রেক ও গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করাসহ ৫ দফা দাবিতে সিলেটে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেল ৩ টায় নগরীর আম্বরখানায় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

৫ দফা দাবির মধ্যে ছিল বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করা এবং ৫০ লাখ চালক ও তাদের উপর নির্ভরশীল আড়াই কোটি মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষায়

রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সংগঠক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সংগঠক প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা আবু জাফর, সিলেট সদর শাখার সভাপতি আব্দুল কদ্দুস, খাদিমপাড়া ইউপির সভাপতি রেশাদ আহমদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা মামুন ব্যাপারী, মহানগরের আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শামিমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, সাহেদ আহমদ, ইমরান আহমদ, মো: আল-আমিন, মো: সুরুজ আলী, মাসুদ আহমদ, বিআরটি থেকে মাসুক মিয়া, বটেশ্বর থেকে সোহেল আহমদ, আবুল মিয়া প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সড়ক পরিবহণ টাস্কফোর্স এর সভায় সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ এবং পর্যায়ক্রমে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ও ভটভটিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ইজিবাইক, রিক্সা ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে এবং এটা সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। এই সব রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক যাত্রী পরিবহণ, পণ্য পরিবহণ এমনকি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎচালিত বলে এই সব বাহন শব্দ দূষণ কিংবা পরিবেশ দূষণ করে না। ছোট ছোট গলিপথে চলাচল করতে পারে এবং ভাড়া কম বলে এই সব বাহন সারা দেশে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। ইতিপুর্বে বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তার যে কোন বিকল্প নেই তা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যাটারি ও মটর আমদানি এবং তৈরি হয়। ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করেন। মেকানিক বা মিস্ত্রিরা এই ব্যাটারি ও মটর লাগিয়ে রিক্সা তৈরি করেন। রিক্সা চালানোর মত কষ্টকর ও অমানবিক শ্রমের কাজ আর নেই।

তারা বলেন, ব্যাটারি লাগানোর কারনে চালকদের কিছুটা শারীরিক শ্রম লাঘব হয়, ফলে এই রিক্সা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে তার শেষ সম্বল বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে রিক্সা কিনে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছে। করোনায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়েরর কারনে মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছে। করোনার প্রথম ধাক্কায় নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এই সময়কালে রিক্সা বন্ধ করে দিলে আরও ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক চালক বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়বে। পরিবহণের সাথে যুক্ত চালক ও তাদের উপর নির্ভরশীল প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বা তাদের পরিবার পরিজন জীবন- জীবিকা হুমকির মধ্যে পড়বে এবং তারাও নতুন করে দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যাবে যা কারো কাম্য নয়।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, করোনা মহারারীর কারনে ইতিমধ্যে আড়াই কোটি মানুষ বেকার হয়েছে যদি বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ করা হয় তাহলে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিবে।