ব্রিজে ঝুলন্ত সেই শিক্ষককে হত্যা দাবি স্ত্রীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ব্রিজে ঝুলন্ত সেই শিক্ষককে হত্যা দাবি স্ত্রীর

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

ব্রিজে ঝুলন্ত সেই শিক্ষককে হত্যা দাবি স্ত্রীর

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্কুলশিক্ষক খন্দকার নজরুল ইসলাম বাবুলকে (৫৫) পূর্বশত্রুতার জের ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি, তাকে দুই দিন আগে মোবাইলে ডেকে নেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গতরাতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ব্রিজে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।

নিহতের স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে তার ভাইপো ও নবম শ্রেণির ছাত্র সাকিবকে (১৪) তার সহপাঠিরা গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। এরপর তাকে হত্যার পর লাশ ওই পার্কের জঙ্গলে গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

তিনি বলেন, আমার স্বামী শিক্ষক নজরুল ইসলাম এই হত্যা মামলাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি কৌশল খাটিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা করেন। এ ঘটনায় ওই মামলার আসামিরা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ ওই ব্রিজে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। আমার স্বামী ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে এর বিচার দাবি করেছেন তিনি।

নিহতের বড় ভাই মানিক মিয়া জানান, গত রোববার সকালে সে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। স্কুলে দুপুর পর্যন্ত ডিউটি পালন শেষে ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্তও সে বাড়িতে ফিরেনি। এ সময় তারাবাড়িয়া গ্রামের এক লোক তার খোঁজে বাড়িতে আসে। তাকে বাড়িতে না পেয়ে মোবাইল ফোনে অন্যত্র ডেকে নেন।র এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সেই থেকে সে গত দুদিন নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি আরো বলেন, তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে কিভাবে তাদের সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানান মানিক মিয়া।

মাকড়কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাড়িতে যাচ্ছেন বলে রোববার দুপুরের দিকে স্কুল থেকে বের হয় বাবুল।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় তার প্যান্টের পকেট থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এটি ঋণের দায়ে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে শাহজাদপুর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।