ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর কাল : সেই দেয়ালচিত্রে এবার স্মৃতিস্তম্ভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর কাল : সেই দেয়ালচিত্রে এবার স্মৃতিস্তম্ভ

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০১৬

ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর কাল : সেই দেয়ালচিত্রে এবার স্মৃতিস্তম্ভ

DSC_0504 (1) copyকালো আর ছোপ ছোপ রক্তের দেয়ালচিত্র। সেখানে মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কলম এঁকে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অনন্ত, অনন্তকাল’। গত বছরের ১২ মে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যার ঘটনাস্থল সিলেট নগরের সুবিদবাজারের চৌরাস্তায় প্রতিবাদী সেই দেয়ালচিত্রে এবার স্মৃতিস্তম্ভ হয়েছে। অন্ধকার বোঝাতে কালো, রক্তাক্ত হওয়া আর কলমের প্রতীকী চিত্রসংবলিত ‘অনন্ত, অনন্তকাল’ নামের এ স্মৃতিস্তম্ভ কাল বৃহস্পতিবার উন্মোচন করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ পর গত বছরের ১৮ মে এলাকাবাসীর সহায়তায় ‘অনন্ত বিজয় দাশ স্মৃতি রক্ষা পরিষদ’ দেয়ালচিত্র নির্মাণ করেছিল। দেয়াল উন্মোচন করে ওই দিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ওই সময় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল দেয়ালচিত্রে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার এক বছর উদ্‌যাপন করা হবে। সে ঘোষণা অনুযায়ী পরিষদের পক্ষে আইনজীবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত বছর দেয়ালচিত্র তৈরির সময় এলাকাবাসীর যে সহায়তা ছিল, একইভাবে স্মৃতিস্তম্ভও হয়েছে।বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার এক বছর কাল। এ দিন উন্মোচন করা হবে দেয়াল–স্মৃতিস্তম্ভ। গতকাল সেখানে শেষ পর্যায়ের কাজ চলতে দেখা যায়। ছবিটি বিকেলে তোলা l প্রথম আলো
গত বছরের ১২ মে সকালে কর্মস্থলে যেতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন অনন্ত। নগরের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগে লিখতেন। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বিজ্ঞানবিষয়ক বই রয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটকাগজযুক্তি নামে একটি পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করতেন তিনি। সিলেটে পরিচালিত বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অনন্ত।
ঘটনার এক দিন পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চার দুর্বৃত্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে স্থানান্তর হলে স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটোসাংবাদিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছে কোনো তথ্য না পাওয়ায় পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
গত বছরের ২৯ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুর গ্রাম থেকে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী (২৪) ও মোহাইমিন নোমান ওরফে নোমান নামে দুই ভাই এবং আবুল খায়ের ওরফে রশীদ আহমদ (২৪) নামের তাঁদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডি সূত্র জানায়, এ মামলায় বর্তমানে মান্নান রাহী নামের একজন জেলে রয়েছেন। নোমান ও রশীদ সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ৫ মে সিলেট কারাগার থেকে বের হন। ওই দিন সিলেট কোতোয়ালি থানার পুলিশ ফের গ্রেপ্তার করে তাঁদের।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ বলেন, নোমান ও রশীদ নামে দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে বাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা থাকায় কারাগার এলাকার পাশের বন্দরবাজার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছর দেয়ালচিত্র মুছে দেয়ালঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। দেয়ালচিত্রের অঙ্কনশিল্পী ছিলেন অনন্ত বিজয় দাশের বন্ধু অরূপ বাউল। স্মৃতিস্তম্ভের নকশাও তিনি করেছেন। গতকাল বিকেলে নির্মাণশ্রমিকদের অরূপ বাউল সর্বশেষ পর্যায়ের নির্দেশনা দিয়ে কাজ করছিলেন। নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে কালো ও লাল রঙের মাঝে হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হয়েছে কলমকে।

 ‘ওইখানে আমিও আছি/যেখানে সূর্যোদয়, প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেব/তুমি আর আমি বোধ হয়…’ দেয়ালচিত্রে অনন্তের একটি লেখা থেকে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল এ কথাগুলো। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ তদারককালে অরূপ বাউল বলেন, দেয়ালচিত্রের এ কথার সঙ্গে মিল রেখে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। তাতে একমাত্র কলমকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল