বড়লেখায় ঘাতকের হাতে খুন হওয়া জাকারিয়ার জানা হলোনা সে এসএসসিতে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

বড়লেখায় ঘাতকের হাতে খুন হওয়া জাকারিয়ার জানা হলোনা সে এসএসসিতে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিজেদের দোকানের পাওনা ৮৫ টাকা চাইতে গিয়ে গত ২১ মে রাতে প্রবাসী এক যুবকের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া জাকারিয়া হোসেন (১৮) এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.০৬ পেয়েছে। সে চলতি বছরে বড়লেখার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদিকে জাকারিয়ার এমন ফলাফলে তাঁর পরিবারের কারোর মুখে হাসি নেই। হাসির বদলে তাদের চোখে নেমেছে অশ্রুর ধারা।

জাকারিয়ার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে সে ডাক্তার কিংবা পাইলট হবে। একদিন পরিবারের হাল ধরবে। বাবার কষ্ট ঘোচাবে। সেই স্বপ্ন পূরণে সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়াও করছিল। সে তার বাবাকে জানিয়ে রেখেছিল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলেই ভালো কোনো কলেজে ভর্র্তি হবে।
রবিবার (৩১ মে) জাকারিয়ার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে। পরীক্ষায় সে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে পাসও করেছে। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফল আর জানা হল না তার। কারণ এর আগেই চিরতরে নিভে গেছে তার প্রাণপ্রদীপ। ফলে জাকারিয়ার স্বপ্ন আর কোনোদিন পূরণ হবে না।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মুঠোফোনে জাকারিয়ার বাবা সালাহ উদ্দিন সাথে আলাপকালে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পরিবারের ছেলে-মেয়ের মধ্যে জাকরিয়া বড় ছিল। সে লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল। জাকারিয়ার স্বপ্ন ছিল সে ভবিষ্যতে ডাক্তার অথবা পাইলট হবে। তাঁর সেই স্বপ্নের কথা প্রায় আমাদের বলতো। এজন্য সে মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতো। পিইসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, জাকারিয়া আমাকে বলেছিল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করলেই ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হবে। আমাদের অভাবের সংসার। এর মধ্যে ছেলেকে কষ্টকরে পড়াচ্ছিলাম। আজ তাঁর রেজাল্ট বের হয়েছে। ছেলে আমার পাস করেছে। কিন্তু সে তা আর ফল জানা হল না। ভর্তি হওয়া হল না ভালো কোনো কলেজে।’ সালাহ উদ্দিন আরো বলেন, ‘আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেকে যে হত্যা করেছে আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক কেউ এভাবে খালি করতে না পারে।’

জাকারিয়া হত্যা মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ও বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ মোহন দেবনাথ বলেন, জাকারিয়া হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের জন্য প্রতিদিনই বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির আরেঙ্গাবাদ গ্রামের সালাহ উদ্দিন বাড়ির পাশে টং দোকানে পান, সিগারেট ও কাঁচামালের ব্যবসা করেন। গত ২১ মে দুপুরে তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন দোকানদারি করছিল। প্রতিবেশী তোতা মিয়া বাড়ি থেকে টাকা এনে দিচ্ছেন বলে ৮৫ টাকার মালামাল ক্রয় করেন। বিকাল পর্যন্ত তোতা মিয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি। রাত ৮টার দিকে জাকারিয়া হোসেন দোকানের পাওনা টাকা চাইতে তোতা মিয়ার বাড়িতে যায়। তিনি টাকা নেই বলে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করেন।

ওই সময় তোতা মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত আজিম উদ্দিন (৩৫) তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি জাকারিয়া হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরে ঘাতক আজিম উদ্দিন গা ঢাকা দেয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল