বড়লেখায় তরুণকে আটকিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করলেন ২ সন্তানের জননী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বড়লেখায় তরুণকে আটকিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করলেন ২ সন্তানের জননী

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

বড়লেখায় তরুণকে আটকিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করলেন ২ সন্তানের জননী

বড়লেখা উপজেলার অফিস বাজারের ২২ বছর বয়সী তরুণ ব্যবসায়ীকে বাড়িতে আটকিয়ে কাজী ডেকে নিয়ে বিয়ে করেন দুই সন্তানের জননী ৪৬ বছর বয়সী বিধবা নারী।পরে নানা কৌশলে ওই তরুণ ব্যবসায়ীর ব্যবসার টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন।পরে দেন মোহরের টাকার জন্য এলাকাসহ থানা পুলিশে অভিযুক্ত স্বামী জাবেরের বিরোদ্ধে অভিযোগ করেন।তা ছাড়াও মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি অভিযোগ পাওয়া গেছে।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকায় গেলে মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সোয়ারারতল গ্রামের হারিছ আলীর ছেলে জাবের উদ্দিন (২২) স্থানীয় অফিস বাজারে মুদি দোকানদার। প্রায় ২ বছর আগে একই গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের স্ত্রী বিধবা হেনা বেগম (৪৬) মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার সুবাদে জাবের উদ্দিনের দোকানে যেতেন এবং গৃহস্থালী বিভিন্ন মালামাল কিনতেন।

একসময় হেনা বেগম বাকিতেও সদাই নিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিধবা হেনা বেগমের নিকট জাবের উদ্দিনের ৬০ হাজার টাকা পাওনা হলে হেনা দোকানে যাতায়াত বন্ধ করে দেন।এনিয়ে জাবের দীর্ঘদিন থেকে পাওনা টাকার জন্য তাগদার পর তাগদা দিতে থাকেন।

হেনা ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয় ব্যবসায়ী জাবেরের উপর। পরে হেনা এবং তার ভাইয়েরা মিলে পাওনা টাকা আনার জন্য তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলে জাবেরকে সে রাতে দোকানপাট বন্ধ করে হেনা বেগমের বাড়িতে যায়। যাওয়া মাত্র ওৎ পেতে থাকা লোকজন হেনা বেগমের ঘরে ডুকে জাবেরকে আটকিয়ে রাতেই কাজী ডেকে এনে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের দু’জনের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য নুর উদ্দিন ও বশির উদ্দিন জানান, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিলে বিয়ে করার পর ব্যবসায়ী জাবের উদ্দিনের বাড়িতে হেনা বেগম ১ মাস ঘর সংসার করেন। সেখানে গিয়ে একটির পর একটি অভিযোগ তুলে জাবেরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের দেনমোহরের টাকার জন্য অনেক জায়গায় হাটাহাটিও করেন।

বড়লেখা থানায় জাবেরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও করে। এখন জানতে পারি জাবের সহ আরো দু’জনকে জড়িয়ে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্রুনাল আদালতে মামলা করেছেন।এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় পঞ্চায়েতের লোকজন তাদের পরিবারকে ছি: ছি: দিচ্ছে।

এব্যাপারে মামলার বাদী হেনা বেগম জানান, আমার ভাইদের পরিবারে আসার পরও জাবের এখানে এসে আমার উপর নির্যাতন চালায় আমার গর্ভে তার সন্তানও রয়েছে। মামলায় যা হয় তা হবে। বিষটি নিয়ে এলাকায় নানানজনে নানান কথা বলছে।

বড়লেখা প্রতিনিধি