বড় পরাজয়ে শেষ হলো দুঃস্বপ্নের সফর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বড় পরাজয়ে শেষ হলো দুঃস্বপ্নের সফর

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

বড় পরাজয়ে শেষ হলো দুঃস্বপ্নের সফর

স্পোর্টস ডেস্ক:: একের পর এক পরাজয়। তারউপর দলের সেরা খেলোয়াড়দের ইনজুরির মিছিল- সব মিলিয়ে টাইগারদের নিউজিল্যান্ড সফর দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করবে অনেকদিন।

এই দুঃস্বপ্নের সিরিজের শেষটাও হলো বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে একদিন বাকি রেখেই ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ফলে দুই ম্যাচ সিরিজের টেস্ট ২-০ ব্যবধানে হেরে নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করলো ইনজুরি আক্রান্ত বাংলাদেশ।

শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আজ ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয় সঙ্গী হয় বাংলাদেশের। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত এ বিপর্যয় এড়াতে না পারায় মাত্র ১৭৩ রানেই অলআউট হয় সাকিব-তামিমরা। ফলে তৃতীয় ইনিংস শেষে মাত্র ১০৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে জয়ের জন্যচতুর্থ ইনিংসে ১০৯ রানের লক্ষ্যে নেমে এক উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টম লাথাম ৪০ ও গ্রান্ডহোম ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। একমাত্র ব্যাটসম্যান জিৎ রাভাল কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলনে ফেরেন।

এরআগে টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর লো অর্ডারে বাংলাদেশের হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বোলার তাসকিন আহমেদ ও কারুল ইসলাম রাব্বী। এই দুই পেসার মিলে আজকের ম্যাচের সেরা পার্টনারশীপ গড়েছেন। সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ মিলে এর আগে সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি গড়েছিলেন। তাদের ছাড়িয়ে তাসকিন ও রাব্বী আজকের ম্যাচের সর্বোচ্চ ৫০ রানের জুটি গড়েন।

তাসকিন ৩০ বলে দুই ছয় ও এক চারে ৩৩ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলনে ফেরেন। অপর প্রান্তে নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ২৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কামরুল হাসান রাব্বি। এর আগে ট্রেন্ট বোল্টের স্লোয়ার ডেলিভারিতে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসনে শান্ত। আরেকবার ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মেহেদি মিরাজ। মাত্র ৪ রান করেই বোল্টের বলে লাথামের কাছে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। সাউদির বলে রুবেল হোসেন (৭) উইকেটরক্ষক ডিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পরার মধ্য দিয়ে আরেকটি ব্যর্থতার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এছাড়া তাসকিন আহমেদ ৩৩ রান করেন। কামরুল হাসান রাব্বি ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

কিউই বোলারদের মধ্যে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি ও নেইল ওয়াগনার প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট নেন।

তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত ৮ রানে টিম সাউদির বলে মিচেল স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়েছেন। অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে পুল করে ডিপস্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন এই টাইগার বাঁহাতি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়ে দেখেশুনেই এগোচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। কলিন গ্র্যান্ডহোমের বলে জিত রাভালকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন টাইগার উদ্বোধনী। অফস্টাম্পের বাইরের নিরীহ দর্শন এক বলে গালিতে ক্যাচে দিয়েছেন সৌম্য (৩৬)।

দুই উদ্বোধনীকে হারিয়ে দল তখন খানিকটা চাপে। সেটি আরো বাড়িয়ে যান সাকিব আল হাসান (৮)। নিজের খেলা প্রথম বলটি অল্পের জন্য গালির ফিল্ডারের হাত পর্যন্ত পৌঁছায়নি। পরের বলে দ্বিতীয় স্লিপে তার সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন রাভাল। সুযোগগুলো কাজে লাগানোর কোনো তাগাদাই দেখা গেলো না অভিজ্ঞ তারকার মাঝে। দৃষ্টিকটু শটে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন সাউদির বলে।

যেটি টেস্টে দুইশতম শিকার টিম সাউদির। ক্যারিয়ারের ৫৬তম টেস্টে এসে পঞ্চম কিউই বোলার হিসেবে এই মাইলফলক ছোঁয়ার কীর্তি গড়লেন ব্ল্যাক ক্যাপস পেসার।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩৮ রানে ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়েছেন। ওয়েগনারের বলে উইকেটের পেছনে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেত সাব্বির।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৮৯ রানের জবাবে ৩৫৪ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। কিউইরা লিড নেয় ৬৫ রানের।