বয়কট ভুলে: মন্ত্রীর ছেলের ফোনে বিপিএল’র মাঠে আরিফ ! সর্বমহলে ক্ষোভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

বয়কট ভুলে: মন্ত্রীর ছেলের ফোনে বিপিএল’র মাঠে আরিফ ! সর্বমহলে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৭

বয়কট ভুলে: মন্ত্রীর ছেলের ফোনে বিপিএল’র মাঠে আরিফ ! সর্বমহলে ক্ষোভ

নানান অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বিপিএলের খেলা গতকাল ৮নভেম্বরে সিলেট পর্বের সমাপ্তি ঘটলো। এই প্রথমবারের মতো সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো বিপিএলের ৪দিনে মোট ৮টি খেলা।

ঘরের মাঠে খেলা, প্রিয় ক্রিকেটারদের খেলা দেখতে সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রথমদিকে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করলেও বিপত্তি বাধে টিকিট পেতে। টিকিটের সিংহভাগ কালোবাজারিদের হাতে চলে যাওয়ায় আনন্দে অনেকটা ভাটা পড়ে সিলেটের ক্রিকেট প্রেমীদের মনে।

এদিকে টিকিট পেতে অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের দাওয়াত না দেওয়ায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও বিপিএল বর্জন করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি অনিয়মের অভিযোগ আর ক্ষোভ ভুলে বিপিএলের খেলা দেখতে মাঠে যান। ৭নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সিক্সার্সের খেলা দেখতে স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যান আরিফুল হক চৌধুরী।

কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিচ্ছেন না কেউই। অনেকেই বলছেন অনেক কথা। কিভাবে তিনি তার বয়কট ঘোষণা দেওয়ার পরও আবার কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপিচুপি মাঠে খেলা দেখতে গেলেন! এসব নিয়ে তোড়পাড় চলছে সিলেটের সর্বমহলে।

সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে মেয়র আরিফ বলেন, শুক্রবার (৩নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে আমাকে বিসিবি কর্তৃপক্ষ দাওয়াত দেয় এবং বাসায় দুইটি ভিআপি কার্ড পাঠায়। কিন্তু কর্পোরেশনের আর কোনো কাউন্সিলরদের দাওয়াত দেয় নাই তারা। ফলে শনিবার আমি বিপিএল খেলা বয়কটের ঘোষণা দেই। কিন্তু পরে আমাকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছেলে ও সিলেট সিক্সার্সের চেয়ারম্যান সাহেদ মুহিত বারবার ফোন করে খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়ামে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরিশেষে আমি বাধ্য হয়ে ৭নভেম্বরের খেলা দেখতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে যাই।

 

সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানান, “মেয়র আরিফ আমাকে ৪ নভেম্বর খেলা উদ্বোধনের দিন ফোন করে বলেছিলেন যে উনাকে বিপিএল কর্তৃপক্ষ খেলা শুরু হওয়ার আগের রাত ১২টায় দুইটি ভিআইপি কার্ড পাঠিয়ে দাওয়াত দেয়। কিন্তু আগে দাওয়াত না দেওয়ায় এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের দাওয়াত না দেওয়ায় উনি বিপিএলের সিলেটের আসরের খেলা বয়কট করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম যে উনি খেলা দেখতে গিয়েছেন। ব্যপারটা অনেকটা হাস্যকর।”

তিনি আরো বলেন, আমাকেও তো বিসিবি কর্তৃপক্ষ বাসায় কার্ড পাঠিয়ে দাওয়াত করেছে। অনেকবার ফোনেও অনুরোধ করেছে যেতে কিন্তু আমি তো যাইনি। সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিক ভাইয়ের বয়কটের ঘোষণার সমর্থন দিয়েছিলাম বলে কথা রেখেছি।

সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র(১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যে ওয়ার্ডের কাউন্সিল সে ওয়ার্ডের পাশেই অনুষ্ঠিত হলো ৫ম বিপিএল এর আসর। খেলা উপলক্ষে নিজের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, অনুসারীরাসহ অনেকেই ফোন করেছিলেন একটা টিকেটের জন্য। কিন্তু আমি কাউকেই বুঝাতে পারছিলাম না যে সিলেটে বিপিএল আয়োজকরা আমাকেই দাওয়াত দেয়নি। খুবই দুঃখ পেয়েছি ব্যাপারটা নিয়ে।

এদিকে বিপিএল খেলা শুরু হওয়ার পরের দিন দেখলাম গণমাধ্যমে এসেছে যে মেয়র আরিফ বিপিএল খেলা বর্জন করেছেন। কারন হিসেবে এও বলছেন যে উনাকে আগে দাওয়াত দেওয়া হয় নাই এবং সিটি কর্পোরেশনের কোনো কাউন্সিলরদেরও দাওয়াত দেওয়া হয় নি। এজন্য তিনি ৩৬জন কাউন্সিলর রেখে একা খেলা দেখতে যাবেন না। এটা দেখে অনেকটা খুশিও হয়েছিলাম। পরে আবার গণমাধ্যমে সংবাদ দেখলাম তিনি ৭নভেম্বর খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। উনি আমাদের কাউকে আর কিছু না জানিয়ে সাহেদ মুহিতের মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব ফোন দেওয়ায় হয়তো এটা উপেক্ষা করতে পারেন নি। কিন্তু হয়তো আমাদের সকল কাউন্সিলরদের নিয়ে একসাথে খেলা দেখতে গেলে বিষয়টা আরোও সুন্দর হতো। এটা তিনি কতটা যৌক্তিক করেছেন আমার বোধগোম্য নয়।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর দিনার খান হাসু জানান, প্রথমে শুনলাম মেয়র মহোদয় খেলা বয়কট করেছেন। পরে আবার জানতে পারলাম উনি খেলা দেখতে মাঠে গেছেন। কিন্তু আমরা কেউই বিষয়টি জানিনা। হয়তো আমাদের সাথে নিয়ে গেলে খেলাটা দেখতে পারতাম। অনেক ইচ্ছা ছিলো খেলা দেখার, কিন্তু টিকেট আর দাওয়াত না পেয়ে খেলা আর দেখা হয়নি।

অনেকেই বলছেন, মেয়র আরিফ কাজটি ভালো করেননি। উনার উচিৎ ছিলো কর্পোরেশনের সবাইকে জানিয়ে কিছু করার। যে কথা উনি রাখতে পারবেন না এমন কথা তিনি দিবেন কেনো!

এরআগে গত শুক্রবার জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগে বিপিএল’র খেলা বয়কটের ঘোষণা দেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনের দিন শনিবার মাঠে আওয়ামী লীগের মহানগরের দুই একজন নেতাকে দেখা গেলেও জেলার কোন নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি।