ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর বাস ব্যবসা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর বাস ব্যবসা

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর বাস ব্যবসা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাস ব্যবসা শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টিরই এক শিক্ষার্থী। শাহ মোহাম্মদ শাকিল নামের ওই শিক্ষার্থী শাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীর।

জানা যায়, ২৬ অক্টোবর শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার পরদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থাকায় পরিবহন স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে তিনি এ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট তৈরি করে তিনি প্রতি সিট ভেদে একশ ৫০ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ একাধিক ভর্তিচ্ছু, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের। তবে এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি কারো কাছ থেকে নেননি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন।

শাহ মোহাম্মদ শাকিল এই অসাধু সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা। কিছুদিন আগে এক ছাত্রীর বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আলোচনায় আসেন। শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার পরদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পরিবহন সেবায় টিকেট সংকট বেশ কিছুদিন থেকেই। এ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে শাকিল কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের নিম্নমানের ৪৫ সিটের ২০টি বাস ভাড়া করেন। যেগুলো বিভিন্ন সময়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে যাবে বলে চুক্তি করা হয় বলে দাবি করছেন শাকিল। এই রুটের বিআরটিসি বাস সার্ভিসের ভাড়া ছয়শ টাকা, এনা, সৌদিয়া প্রমুখ পরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ সাতশ টাকা হলেও শাকিল কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের নিম্নমানের বাসগুলোর ভাড়া প্রতি সিটভেদে আটশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত রাখছেন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। উপায় না দেখে পরীক্ষার্থীরাও অতিরিক্ত মূল্যে টিকেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন শাকিলের কাছ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক পলাশ বলেন, যে হারে বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে শাকিল, প্রতি বাসে গড়ে ১০ হাজার টাকা করে লাভ করলে ২০টি বাস থেকে তার লাভ দাঁড়াচ্ছে দু’লাখ টাকার মতো। যা ভর্তি পরীক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে এক ধরনের ব্যবসা।

তবে এ বিষয়ে কথা বললে ব্যবসার বিষয়টি এড়িয়ে যান শাকিল। তিনি জানান, তিনি মোটেও লাভ করছেন না পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তবে পরিবহন সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন কারো কাছ থেকে নেননি বলে জানান। অন্যদিকে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার তিনি নিবেন না বলেও জানান।

এদিকে শাকিলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়টির আরো তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী এই অসাধু ব্যবসায় হাত বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘তার বাস ব্যবসার বিষয়টি আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ স্যার জানিয়েছেন। তবে শাকিল এ ধরনের কোনো অনুমতি আমাদের কাছ থেকে নেননি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভর্তি কমিটির শৃঙ্খলা উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বলেন, সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। আমি ওসিসহ বিভিন্ন পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। পুলিশ প্রশাসন বলেছে, সার্বিক দিক বিবেচনায় বাস ভাড়া আটশত টাকার বেশি মানা যায় না। কারো কাছ থেকে যদি আটশত টাকার বেশি টাকা নেয় তাহলে সে যাতে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফেরত দেয়। তা না হলে বাস ঠিকই চট্টগ্রাম যাবে কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাকে জেলে পাঠানো হবে।