ভাবনায় ২৬শে মার্চ ও কিছু কথা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভাবনায় ২৬শে মার্চ ও কিছু কথা

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

ভাবনায় ২৬শে মার্চ ও কিছু কথা

সব‍্যসাচী দেবরায় (রাজু)
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিক্তিতে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র। পাকিস্তান মুলত: পুর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ ) ও পশ্চিম পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। শুরু থেকেই অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী পশ্চিম পাকিস্তান চাকুরী, ভাষা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুর্ব পাকিস্তানের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১সালের মার্চ মাসে একটা অনিবার্য সংঘাতের দিকে মোড় নেয় পরিস্থিতি। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১সালের ৭ই মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙ্গালী জাতির উদ্দেশ্যে দৃপ্ত কন্ঠে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ রুপরেখা পাঠ করেন। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ফুসে উঠে পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠী। তারা রাতের আধারে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি সমাজের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। বিভীষিকাময় সেই রাত্রিতে ছাত্র শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নেতা কর্মী সহ বিভিন্ন পেশার প্রায় পঞ্চাশ হাজারের মত বাঙ্গালীকে হত‍্যা করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্বাধীন বাংলার রুপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তবে গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন এবং একটি বার্তা পাঠান। এতে লিখা ছিল :”এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহবান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন‍্যটিকে উৎখাত করা এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পযর্ন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব‍্যাহত থাকুক”। এই ঘোষণা পত্রটি ২৬শে মার্চ প্রথমে চট্টগ্রামের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মরহুম এম, এ, হান্নান পাঠ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে একজন আর্মির অফিসার দিয়ে এই ঘোষণা পত্র পাঠ করাবেন। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানকে দিয়ে আবারো পাঠ করানো হয় এবং জিয়াউর রহমান তার ভাষনে বলেন যে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি পাঠ করছি। মুলত:২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা আর গ্রেপ্তারের পরই মুক্তিকামী সর্বস্তরের জনতা মুক্তিসংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। নয় মাস ব‍্যাপী এই যুদ্ধে ভারতের সহায়তায় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জত ও ৩০লক্ষ শহীদদের আত্মত‍্যাগের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। সেই থেকেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এবং অর্জন করে একটি লাল সবুজ পতাকা। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৭২ সালের ২২শে জানুয়ারি একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সরকার ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সরকারি ছুটি হিসাবে ঘোষণা করে।

দৈনিক সিলেটের দিনকাল /আমছাল /২৫মার্চ২০২১