ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঢাকায় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঢাকায়

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৭

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঢাকায়

তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বহনকারী ভারতীয় বিশেষ বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে সেনাবাহিনীর লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান ভারতীয় সেনাপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানান।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের আমন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশ সফর করছেন। ভারতীয় সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার স্ত্রী মাধুলিকা রাওয়াত এবং চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই নিয়ে আলোচনার মধ্যেই জেনারেল রাওয়াত এই সফর করছেন। সফরে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা মতবিনিময় করবেন।

ঢাকার মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের শিক্ষার্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণও দেবেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। সেনা কর্মকর্তা রাওয়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পীরগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, গোবিন্দগঞ্জ, শাওলকান্দি, মহাস্থান সেতু এবং বগুড়ায় যুদ্ধে অংশ নেয়।

সফরের সময় ভারতীয় সেনাপ্রধান একাত্তরের ওই যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর কয়েকটি ঘুরে দেখবেন বলে ভারতীয় হাইকমিশনের বিবৃতিতে জানানো হয়।ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান সফর বিনিময়ের অংশ হিসেবে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই কর্মসূচি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ভারত সফরে গিয়েছিলেন। বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনী প্রধানরাও ২০১৬ সালে ভারত সফর করেন। ভারতের বিমান বাহিনী এবং নৌ-বাহিনী প্রধানও ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ১ জানুয়ারি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর জেনারেল রাওয়াত তার আন্তর্জাতিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন বলে হাইকমিশন জানায়। ভারতীয় সেনাপ্রধান নেপাল সফরেও যাবেন। সেখানে তাকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী নেপালের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ‘নেপাল সেনাবাহিনীর জেনারেল’-এর সম্মানজনক উপাধিতে ভূষিত করা হবে।